পঞ্চায়তন শিব মন্দির, পাঁচথুপি, মুর্শিদাবাদ
শ্যামল কুমার ঘোষ
মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা থানার অন্তর্গত একটি গ্রাম পাঁচথুপি। মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর থেকে বাসে সহজেই এই গ্রামে যাওয়া যায়। কাটোয়া-আজিমগঞ্জ রেল পথে খাগড়াঘাট স্টেশন থেকেও এই বাসটি পাওয়া যায়। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি থেকেও বাসে এই গ্রামে যেতে পারেন। পূর্বে এখানে পাঁচটি বৌদ্ধ স্তুপ থাকার জন্য 'পঞ্চস্তুপ' থেকে পাঁচথুপি নাম হয়েছে বলে জনশ্রুতি।
গ্রামের হাতিবাগানে 'পঞ্চায়তন' শিব মন্দিরটি একটি দ্রষ্টব্য। এই শৈলীর মন্দির বিরল। একই ভিত্তিবেদির উপর চারকোণে একই আকৃতির চারটি দেউল ও কেন্দ্রস্থলে একটি বড় দেউল অধিষ্ঠিত। মন্দিরটি স্থানীয়দের কাছে 'নবরত্ন' মন্দির বলে পরিচিত। আসলে বড়ো দেউলটির ভিতরের মাঝখানে একটি বড়ো শিবলিঙ্গ ও চার কোণে চারটি ছোটো ছোটো শিবলিঙ্গ এবং চারটি ছোটো দেউলে চারটি শিবলিঙ্গ মোট নয়টি শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত। তাই 'নবরত্ন' আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আসলে এটি 'পঞ্চায়তন' মন্দির। মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন পাঁচথুপির জমিদার জগন্নাথ ঘোষহাজরা। এই 'পঞ্চায়তন' মন্দির আর একটি আছে বর্ধমান জেলার বৈকুণ্ঠপুরে। পূর্বমুখী মন্দিরের দেওয়ালে টেরাকোটার অলংকার বর্তমান। টেরাকোটার বিষয় : রামরাবণের যুদ্ধ, দশাবতার, মহিষাসুরমর্দিনী, কালী, সরস্বতী, কার্তিক, বেণুকৃষ্ণ, বিষ্ণু, ঘোড়সওয়ার, হাতি, হংস সারি, ফুলকারী নকশা ইত্যাদি। খ্রিস্টীয় আঠারো শতকের মধ্যভাগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয় জমিদার জগন্নাথ ঘোষহাজরা। মন্দিরের শিবলিঙ্গগুলি নিত্য পূজিত।
মন্দিরটি পরিদর্শনের তারিখ : ০৫.০৩.২০২০
 |
| দশাবতারের পাঁচ অবতার |
 |
| পঞ্চায়তন শিব মন্দির, পাঁচথুপি |
 |
| পূর্ব-দক্ষিণ কোণের দেউল |
 |
| উত্তর-পূর্ব কোণের দেউল |
 |
| দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের দেউল |
 |
| উত্তর-পশ্চিম কোণের দেউল |
 |
| মাঝের দেউল |
 |
| মাঝের দেউলের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| রামরাবণের যুদ্ধ |
 |
| দশাবতারের পাঁচ অবতার |
 |
| দশাবতারের অবশিষ্ট অবতার |
 |
| মহিষাসুরমর্দিনী |
 |
| বলরাম ও অন্য চিত্র |
 |
| কৃষ্ণ ও বলরাম |
 |
| কালী ও অন্য চিত্র |
 |
| কালী |
 |
| সরস্বতী ও কার্তিক |
 |
| শালভঞ্জিকা ও অন্য চিত্র |
 |
| বিষ্ণু |
 |
| কৃষ্ণ ও অন্য দুটি চিত্র |
 |
| ঘোড় দৌড় - ১ |
 |
| ঘোড় দৌড় - ২ |
 |
| বাঁ দিকের ভিত্তিবেদি সংলগ্ন কাজ |
 |
| বড় করে |
 |
| ডান দিকের ভিত্তিবেদি সংলগ্ন কাজ |
 |
| বড় করে |
 |
| বড় করে |
 |
| বড় ফুল |
 |
| ফুলকারি নকশা - ১ |
 |
| ফুলকারি নকশা - ২ |
সহায়ক গ্রন্থ :
১) বাংলার মন্দির স্থাপত্য ও ভাস্কর্য : প্রণব রায়
-------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।
বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।
আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।
অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।
প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
-----------------------------------------------------------
আমার WhatsApp no. 8961961262. প্রয়োজনে WhatsApp করতে পারেন।