কালিকা-মঙ্গলা মাতার মন্দির ও রাসমঞ্চ, রঘুনাথ মন্দির চত্বর, আলংগিরি, পূর্ব মেদিনীপুর
শ্যামল কুমার ঘোষ
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা ১ নং ব্লকের অধীন একটি গ্রাম আলংগিরি। হাওড়া স্টেশন বাস স্ট্যান্ড থেকে এগরা গামী বাসে প্রথমে এগরার দীঘামোড়। সেখান থেকে ট্রেকারে আলংগিরি বাজার। আলংগিরি বাজার থেকে টোটোতে বা হেঁটে আলংগিরি গ্রাম। গ্রামের দক্ষিণে শ্রীশ্রী রঘুনাথ জিউ ও বালমুকুন্দ জিউ'র নবরত্ন মন্দির এখানকার প্রধান পুরাকীর্তি। এই মন্দির সম্বন্ধে অন্যত্র লিখেছি। মন্দিরটি সম্বন্ধে জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন :
শ্রীশ্রী রঘুনাথ জিউ ও বালমুকুন্দ জিউ'র নবরত্ন মন্দির
এই মন্দিরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে মন্দির সংলগ্ন কালিকা-মঙ্গলা মাতার মন্দির অবস্থিত। মন্দিরটি সামান্য উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, পূর্বমুখী ও ইঁটের তৈরি একটি ঘর। মন্দিরে প্রবেশের একটিই দরজা। মন্দিরের দুই প্রান্তের এক সারি করে কুলুঙ্গির মধ্যে এবং কার্নিসের নিচে টেরাকোটা ফলক লাগানো আছে। এই টেরাকোটার বিষয় : দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপ, বিষ্ণুর বিভিন্ন অবতার রূপ, লতাপাতা ইত্যাদি। দরজার খিলানের উপরে পঙ্খের কাজটিও খুব সুন্দর। গর্ভগৃহে কালিকা ও মঙ্গলা মাতার পিতলের বিগ্রহ নিত্য পূজিত।
মন্দির ও রাসমঞ্চ পরিদর্শনের তারিখ : ০৭.০৩.২০১৯
 |
| কালিকা-মঙ্গলা মাতার মন্দির |
 |
| খিলানের উপরের কাজ |
 |
| বলরাম ও অন্য চিত্র |
 |
| জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা ও অন্য চিত্র |
 |
| পরশুরাম |
 |
| দুর্গার বিভিন্ন রূপ |
 |
| অন্নপূর্ণা ও গনেশজননী |
নবরত্ন মন্দিরের দক্ষিণে, একটু দূরে একটি আটকোণা ও ন'চূড়াযুক্ত রাসমঞ্চ আছে। রাসমঞ্চের কার্নিসের নিচে 'টেরাকোটা'র সুন্দর সুন্দর ফলক বিদ্যমান। 'টেরাকোটা'র বিষয় : মূলতঃ কৃষ্ণলীলা। আগে প্রতি খিলানের স্তম্ভে বড় বড় টেরাকোটা মূর্তি ছিল। এখন দু-একটি ছাড়া সবই ভগ্ন।
 |
| রাসমঞ্চ |
 |
| টেরাকোটা ফলক - ১ |
 |
| টেরাকোটা ফলক - ২ |
 |
| টেরাকোটা ফলক - ৩ |
 |
| টেরাকোটা ফলক - ৪ |
 |
| টেরাকোটা ফলক - ৫ |
 |
| টেরাকোটা ফলক - ৬ |
 |
| টেরাকোটা ফলক - ৭ |
 |
দ্বারে দন্ডায়মানা নারী মূর্তি
------------------------------- অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রি ভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং সাঁইবনার নন্দদুলাল -- এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর পুনর্জন্ম হয় না। বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার দ্বিতীয় বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'( মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা )। প্রকাশক : রা প্রকাশন ও মুদ্রণ।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে। কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
|