Bhabani Kali Mandir / Trannath Kali Bari Panihati Sodepur Uttar 24 Parganas লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Bhabani Kali Mandir / Trannath Kali Bari Panihati Sodepur Uttar 24 Parganas লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১

Bhabani Kali Temple / Trananath Babu's Kali Bari, Panihati, North 24 Parganas

ভবানী  কালীমন্দির /  ত্রাণনাথ  কালী  বাড়ি,  পানিহাটি,  উত্তর  ২৪  পরগনা  

                   শ্যামল  কুমার  ঘোষ

            ভবানী  কালী  মন্দির  পানিহাটি  ফেরিঘাটের  কাছে অবস্থিত  একটি  প্রাচীন  কালী  মন্দির।  যদিও  মন্দিরটি  ত্রাণনাথ  বাবুর  কালীবাড়ি  নামেই  বেশি  পরিচিত।  উঁচু  ভিত্তিবেদির  স্থাপিত,  ত্রিখিলান  প্রবেশপথযুক্ত,  দক্ষিণমুখী  মন্দিরটি  পঞ্চরত্ন  শৈলীর।  পঞ্চরত্নের  শিখরগুলি  রেখ  ধরণের  খাঁজ  কাটা।  মন্দিরের  কার্নিস  সোজা।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ।  গর্ভগৃহে  মা  ভবানীর  কষ্টিপাথরে  নির্মিত  বিগ্রহ  একটি  কাঠের  সিংহাসনে  প্রতিষ্ঠিত  ও  নিত্যপূজিত।  বিগ্রহ  আগে  ছিল  একটি  রুপোর  সিংহাসনে।  ১৯৭৫  সালে  সিংহাসনটি  চুরি  যায়।  মন্দিরে  তিনটি  আটচালা,  পশ্চিমমুখী  শিবমন্দিরে  তিনটি  শিবলিঙ্গ  প্রতিষ্ঠিত।  দুটি  শিবলিঙ্গ  কষ্টিপাথরের,  তৃতীয়টি  একটু  অন্যরকম।  গৌরীপট্ট  শ্বেতপাথরের  এবং  লিঙ্গভাগ  কষ্টিপাথরের।  এখানে  শিবশক্তি  রূপের  প্রকাশ  ঘটেছে।  মন্দিরের  কাছেই  আছে  ত্রাণনাথ  বাবুর  ঘাট।  গঙ্গার  ধারে  অবস্থিত  মন্দিরটির  প্রাকৃতিক  পরিবেশ  খুব  সুন্দর। 

            খ্রিষ্টীয়  তৃতীয়  শতকে  বেড়াচাঁপার  রাজা  চন্দ্রকেতু  গড়  স্থাপন  করে  তার  ভিতরে  ভবানী  নাম  এক  কালিকা  মূর্তি  প্রতিষ্ঠা  করেন।  মুসলমান  আক্রমণের  সময়  চন্দ্রকেতুর  বংশধরেরা  নিহত  হন।  জনৈক  ব্রহ্মচারী  বিগ্রহ  নিয়ে  বেড়াচাঁপা  থেকে  পালিয়ে  আসেন  এখানকার  গঙ্গাতীরে।  পঞ্চমুন্ডি  আসন  স্থাপন  করে  মায়ের  পূজা  আরাম্ভ  করেন।  ব্রহ্মচারীর  শিষ্য  পরম্পরায়  ওই  বিগ্রহ  পূজিত  হচ্ছিল।  শেষ  ব্রহ্মাচারী  ত্রাণনাথ  বাবুর  বাবা  নসীরাম  ( অন্যমতে,  মসিরাম )  বন্দোপাধ্যায়ের  হাতে  পূজার  ভার  দিয়ে  দেহ  রাখেন।  নসীরাম  বাবুর  পর  ত্রাণনাথ  বাবু  এই  মন্দির  নির্মাণ  করে  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  করেন।  অন্যমতে,  রাজা  চন্দ্রকেতু  পানিহাটিতে  একটি  গড়  বা  কেল্লা  তৈরি  করেন।  আর  সেই  গড়ে  মন্দির  স্থাপন  করে  প্রতিষ্ঠা  করেন  ভবানীর  মূর্তি।  কেল্লার  নাম  হয়  গড়  ভবানী।  পানিহাটির  উত্তর  অংশের  নাম  হয়  ভবানীপুর। মুসলিম  আক্রমণের  সময়  সেই  কালী  মূর্তি  হারিয়ে  যায়।  পরে  কলকাতার  বাগবাজারের  গাঙ্গুলি  পরিবারে  সেই  মূর্তি  খুঁজে  পাওয়া  যায়  এবং  গঙ্গা  তীরে  মন্দির  তৈরি  করে  প্রতিষ্ঠা  করা  হয়। 

     কী  ভাবে  যাবেন ?

            হাওড়া,  শিয়ালদহ  বা  শ্যামবাজার  থেকে  বি. টি. রোড  গামী  বাসে  উঠে  পানিহাটিতে  নামুন।  সেখান  থেকে  অটো  পাবেন।  শিয়ালদহ  থেকে  ট্রেনে  এলে  সোদপুরে  নামুন।  সেখান  থেকে  অটো। 

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২৫.০৮.২০২১ 


ভবানী মন্দিরের  শিখর 

ভবানী কালীমন্দির ( পিছনের দিক থেকে তোলা )

ভবানী কালীমন্দির ( সামনে থেকে তোলা )

মা ভবানী - ১

মা ভবানী - ২

সহায়ক  গ্রন্থ /  সূত্র : 
                 ১)  পশ্চিমবঙ্গ  ভ্রমণ  ও  দর্শন :  ভূপতিরঞ্জন  দাস 
                 ২)  পানিহাটি  পৌরসভার  ওয়েবসাইট 

                                               *********
            পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য কালী মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন / লিংকের উপর আঙুল দিয়ে টোকা দিন : 

                    --------------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।