বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১

Shri Shri Radhagobinda Temple, Raja Rammohan Sarani ( Amherst Street), Central Kalkata

শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির, রাজা রামমোহন  সরণি ( আমহার্স্ট স্ট্রিট ), মধ্য কলকাতা 

                            শ্যামল কুমার ঘোষ 

            কলকাতার মহাত্মা গান্ধী রোড ও রাজা রামমোহন সরণির  সংযোগস্থলের একটু দূরে ১২ সি, রাজা রামমোহন সরণিতে  রাধাগোবিন্দ জিউ'র মন্দির বা শম্ভু সেনের ঠাকুরবাড়ি অবস্থিত।  প্রতিষ্ঠাফলকে অবশ্য রাধাগোবিন্দ ধাম বলে উল্লেখ আছে। 

            সামান্য উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, পত্রাকৃতি তিন-খিলানবিশিষ্ট, অলিন্দযুক্ত  মন্দিরটি সমতলছাদবিশিষ্ট একটি দালান  শৈলীর মন্দির। মন্দিরের সামনে বর্গাকৃতি ছোট ফাঁকা উঠান এবং  তাকে ঘিরে চকমিলানো অনেকগুলি ঘর। দোতালা ও তিনতলাতেও  নিচের মতো চকমিলানো ঘর আছে।

            মন্দিরের উঠানের চারিদিকে বারান্দার সামনে প্রতিদিকে  তিনটি করে মোট বারোটি খিলান আছে। প্রতিটি খিলানে কৃষ্ণলীলার  এক একটি দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মন্দিরে কাচের বাক্সে  দশাবতারের কয়েকটি অবতারের মূর্তিও আছে।   

            ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে ( ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে ) মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত। এই  দেবায়তনের বাইরের ছাদের কাছে পঙ্খ-পলস্তারায় একটি  প্রতিষ্ঠাফলক আছে।  

            গর্ভগৃহে গোবিন্দ ও রাধিকা বিগ্রহ নিত্য পূজিত।

            তারাপদ সাঁতরার লেখা "কলকাতার মন্দির-মসজিদ ( স্থাপত্য-অলংকরণ-রূপান্তর )" গ্রন্থে এই দেবায়তনের উল্লেখ আছে। আমার  এই মন্দির / ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের তারিখ : ০২.১২.২০২১

রাধাগোবিন্দ  জিউ'র  মন্দির

শম্ভু সেনের ঠাকুরবাড়ি / রাধাগোবিন্দ ধাম, কলকাতা 

প্রতিষ্ঠাফলক 

রাধাগোবিন্দ  জিউ'র  মন্দির

মন্দিরের সামনের বিন্যাস 

গর্ভগৃহের সামনে 

কৃষ্ণ লীলা - ১

বাঁ দিকে, সংকীর্তন দৃশ্য 
ডান দিকে, কৃষ্ণের গোষ্ঠ লীলা  

ডান দিকে, কংসের কারাগারে দেবকী ও বসুদেব 

বাঁ দিকে, কংসের কারাগারে কৃষ্ণের জন্ম 
ডান দিকে, শিশু কৃষ্ণকে নিয়ে বসুদেবের যমুনা অতিক্রম
 

বাঁ দিকে, শিশু কন্যাকে আছড়ে মারতে উদ্যত কংস  
ডান দিকে, শিশু কন্যা অষ্টভুজা দেবীমূর্তি ধারণ করে আকাশ পথে অন্তর্হিতা হলেন
 

বাঁ দিকে, যমুনার ঘাটে যশোদার কোলে কৃষ্ণ 
ডান দিকে, সকটাসুর বধ 

বাঁ দিকে, ননী চোরা কৃষ্ণ 
ডান দিকে, বকাসুর বধ 



বাঁ দিকে, কৃষ্ণের কালীয় নাগ দমন 
ডান দিকে, কৃষ্ণ কর্তৃক গোপীদের বস্ত্রহরণ
 

বাঁ দিকে, কৃষ্ণের গিরিগোবর্ধনধারণ 
ডান দিকে, সখি পরিবৃত কৃষ্ণ 

বাঁ দিকে, নিধু-বনে কৃষ্ণ ও সখিরা 

বাঁ দিকে, ক্ষীর সাগরে নারায়ণ 
ডান দিকে, কৃষ্ণের মথুরাগমন দৃশ্য
 

ডান দিকে, কংস বধ 

রামরাজা 

বরাহ অবতার 

পরশুরাম 

নৃসিংহ অবতার  

গোবিন্দ ও রাধিকা বিগ্রহ - ১

গোবিন্দ ও রাধিকা বিগ্রহ - ২

 

              কলকাতার অন্যান্য মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন / লিংকের উপর আঙুল দিয়ে টোকা দিন : 

                        কলকাতার  মন্দির

             -------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন