মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১

Lakshminarayan Temple, Shrigopal Mullick Lane, Kolkata

 লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ'র মন্দির, শ্রীগোপাল মল্লিক লেন, কলকাতা 

                     শ্যামল কুমার ঘোষ 

            কলকাতার কলেজ স্ট্রিট অঞ্চলের ১৭/৭, শ্রীগোপাল মল্লিক লেনে লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ'র মন্দির অবস্থিত।

            অল্প উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, পত্রাকৃতি তিন-খিলানবিশিষ্ট, দক্ষিণমুখী, অলিন্দযুক্ত  মন্দিরটি সমতলছাদবিশিষ্ট একটি দালান শৈলীর মন্দির। মন্দিরের সামনে ফাঁকা উঠান এবং তাকে ঘিরে চকমিলানো অনেকগুলি ঘর। দোতালাতেও নিচের মত  চকমিলানো ঘর আছে। দোতালার বারান্দায় সুন্দর ঢালাই লোহার রেলিং আছে। মন্দিরের গর্ভগৃহ ও অলিন্দের মেঝে সাদা-কাল পাথরের। গর্ভগৃহের সামনের থামে অল্প পঙ্খের কাজ আছে।

             ১৩৪০ বঙ্গাব্দে ( ১৯৩৩ খ্রীষ্টাব্দে ) তিনকড়ি মল্লিক ও আনন্দলাল মল্লিক নামে দুই ভাই তাঁদের বাবা স্বর্গীয় অক্ষয়কুমার মল্লিক ও মা স্বর্গীয়া সত্যমণি দাসীর স্মরণার্থে এই  মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই দেবায়তনের বাইরের দরজার ডান দিকের দেওয়ালে একটি প্রতিষ্ঠাফলক আছে। প্রতিষ্ঠাফলকটি শ্বেতপাথরের। গর্ভগৃহে একটি কাঠের সিংহাসনে নারায়ণ শিলা ও মা লক্ষ্মী ( কুনকে ) নিত্য পূজিত। নারায়ণ শিলা ও কুনকে এমন সাজানো আগে দেখেনি।  

            তারাপদ সাঁতরার লেখা " কলকাতার মন্দির-মসজিদ ( স্থাপত্য-অলংকরণ-রূপান্তর )" গ্রন্থে এই দেবায়তনের উল্লেখ আছে। আমার এই ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের তারিখ : ০২.১২.২০২১

লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, শ্রীগোপাল মল্লিক লেন, কলকাতা 

পঙ্খের কাজ 

গ্রিলের নকশা 

বাড়ির প্রবেশ-দ্বার 

প্রতিষ্ঠাফলক 

মন্দিরের গর্ভগৃহের সামনের বিন্যাস 

নারায়ণ শিলা ও মা লক্ষ্মী ( কুনকে ) 

কী ভাবে যাবেন ?

            কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীত দিকে সূর্য সেন স্ট্রিট। এই রাস্তা দিয়ে ঢুকে কিছুটা এগুলেই ডান দিকে পড়বে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের বোরো পাঁচের অফিস। এই অফিসের ঠিক পরের ডান দিকের রাস্তার নাম রাধানাথ মল্লিক লেন। এই রাধানাথ মল্লিক লেন দিয়ে ঢুকে একটু এগুলেই বাঁ দিকে পড়বে শ্রীগোপাল মল্লিক লেন। ১৭/৭ শ্রীগোপাল মল্লিক লেনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ'র মন্দির। 

            কলকাতার অন্যান্য মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন / লিংকের উপর আঙুল দিয়ে টোকা দিন : 

                  কলকাতার  মন্দির 

                -------------------------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।




 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।              

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন