রবিবার, ৩ মার্চ, ২০১৯

LakshmiJanardan and Bishweshwar Shib Temple, Duan, Debra, Paschim Medinipur


লক্ষ্মীজনার্দন  ও  বিশ্বেশ্বর  শিব  মন্দির,  ডুঁয়া, পশ্চিম  মেদিনীপুর 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            হাওড়া-মেদিনীপুর  রেলপথে  ডুঁয়া ( Duan )  একটি  স্টেশন।  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৮৭.৬  কিমি।  ডুঁয়া  স্টেশন  থেকে  হাঁটা  পথে  ২  কিমি  দূরে  ডুঁয়া  গ্রামের  রায়  পাড়া।  রায়  পাড়ায়  রায়  বংশ  প্রতিষ্ঠিত  ইঁটের  তৈরি  লক্ষ্মীজনার্দনের  মন্দিরটি  উল্লেখযোগ্য।  এই  রায়রা  ক্ষত্রিয়।  উত্তর  প্রদেশের  মথুরা  থেকে   এখানে  এসে  এঁরা  জমিদারি  প্রতিষ্ঠা  করেন।
  
            প্রায়   ভূমি  সমতলে  অবস্থিত  দক্ষিণমুখী  ও  ত্রিখিলান  প্রবেশপথবিশিষ্ট  মন্দিরটি  'দালান'  শ্রেণীর।  ১৩০৫  বঙ্গাব্দে  মন্দিরটি  পাকা  করা  হয়।  মন্দিরের  তিনটি  খিলানের  উপরে  পঙ্খের  কাজ  আছে।  গর্ভগৃহের  সামনের  দেওয়ালের  দুপাশে  পঙ্খের  তৈরি  দুটি  দন্ডায়মানা  নারীমূর্তি  আছে।  মন্দিরের  সবচেয়ে  দর্শনীয়  যেটি  সেটি  হল  গর্ভগৃহের  দরজার  তক্ষন-ভাস্কর্য।  কাঠের  উপর  খোদাই  করে  রামরাবণের  যুদ্ধ,  দশাবতার  মূর্তি  ও  কৃষ্ণলীলার  দৃশ্য  ফুটিয়ে  তোলা  হয়েছে।  তবে  রাসায়নিক  রঙের  প্রলেপে  এই  ভাস্কর্য-সৌন্দর্য  এখন  কিছুটা  ম্লান।  গর্ভগৃহে  শ্রীশ্রী লক্ষ্মীজনার্দন ( নারায়ণ  শিলা )  নিত্য  পূজিত।  এ  ছাড়া  অন্যান্য  অনুষ্ঠানও  পালন  করা  হয়। 

            মন্দিরটি  একটি  ঘেরা  ক্ষেত্রে  অবস্থিত।  এখানে  একটি  শীতলা  মন্দির  ও  দুর্গাদালান  আছে।  দুর্গাদালানে  দুর্গাপূজার  সময়ে  দুর্গাপূজা  অনুষ্ঠিত  হয়।  ঘেরা  ক্ষেত্রের  বাইরে  পশ্চিমমুখী  আটচালা  বিশ্বেশ্বর  শিবমন্দির  অবস্থিত।  এই  মন্দিরের  সামনের  দেওয়ালে  দুটি  পঙ্খের  মূর্তি  আছে।  ঘেরাক্ষেত্রসহ  রায়পাড়ার  সমস্ত  জমি  দেবত্তর  সম্পত্তি।  একটি  ট্রাস্টিবোর্ড  দ্বারা  মন্দিরগুলি  পরিচালিত  হয়।  দুর্গাপূজা  ও  অন্যান্য  পূজার  সমস্ত  খরচ  সম্পত্তি  থেকে  আদায়ীকৃত  অর্থ  দ্বারা   সম্পন্ন  হয়।
             
            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২২.০১.২০১৯

রামরাবণের যুদ্ধ



মন্দিরের সামনের বিন্যাস 

বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ 

মাঝের খিলানের উপরের কাজ 

ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ 

মন্দিরের শিখর 

দরজায় দন্ডায়মানা নারীমূর্তি 

গর্ভগৃহের দরজার কাজ 

রামরাবণের যুদ্ধ

দশাবতার ও কৃষ্ণলীলা 

দশাবতার 

বাণেশ্বর  শিবমন্দির

মন্দিরের সামনের দেওয়ালের একটি মূর্তি

                   ----------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।




প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন