জোড়া শিব মন্দির, নিত্যানন্দপুর, হুগলি
শ্যামল কুমার ঘোষ
ব্যাণ্ডেল-কাটোয়া রেলপথে কুন্তিঘাট একটি স্টেশন। ব্যাণ্ডেল থেকে তৃতীয় স্টেশন। হাওড়া থেকে রেলপথে দূরত্ব ৫১ কিমি। আগে কুন্তিঘাট স্টেশনের নাম ছিল নিত্যনন্দপুর। স্টেশন থেকে ২ কিমি দূরে নিত্যানন্দপুর গ্রাম। প্রাচীনকালে শ্রী রঘুনাথ দাস গোস্বামী শ্রীমদ্ নিত্যানন্দ প্রভুর এইস্থানে আগমন স্মরণীয় করবার জন্য গ্রামের নামকরণ করেন নিত্যনন্দপুর। দুশ বছরেরও বেশি পূর্বে এই বৈশিষ্টহীন ক্ষুদ্র গ্রামে একজন খ্যাতনামা পণ্ডিত ছিলেন, তাঁর নাম চন্দ্রশেখর বাচস্পতি। তিনি নবাব সফররাজ খাঁর কাছ থেকে জমিদারী পেয়ে এই গ্রামে এসে বাস করেন। তাঁর পৌত্র শঙ্কর নারায়ণ ভট্টাচার্য এই গ্রামে ঈশানেশ্বর ও ত্র্যম্বকেশ্বর নামক আটচালা শৈলীর জোড়া শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
মন্দির দুটি একই উঁচু ভিত্তিবেদির উপর প্রতিষ্ঠিত, অলিন্দ বিহীন ও পশ্চিম মুখী। দুটি মন্দিরেরই একটি করে প্রবেশদ্বার। উভয় প্রবেশদ্বারের উপরে পত্রাকৃতি খিলান, অর্থাৎ খিলানের নিচের প্রান্ত ছোট ছোট অর্ধবৃত্তাকারে ঢেউ খেলানো। উভয় শিবমন্দিরের খিলানের উপরের প্রান্ত বরাবর দশটি করে প্রতীক শিবমন্দির এবং তার মধ্যে শিবলিঙ্গ। সুধীর কুমার মিত্র লিখিত "হুগলি জেলার ইতিহাস" থেকে জানা যায় যে উভয় মন্দিরের সামনের দেওয়াল পূর্বে পোড়ামাটির অলংকারে সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু কালের নির্মম আঘাতে সেই অলংকারের সামান্যই আজ অবশিষ্ট। উপরন্তু সেই অবশিষ্ট টেরাকোটা অলংকারও অপটু হাতের রঙের প্রলেপে অনেকটাই ম্লান। পূর্বোক্ত বই থেকে জানা যায়, মন্দিরের নির্মাণকাল ১৭০৫ শকাব্দ এবং মন্দিরের শিল্পী ছিলেন চিন্তামণি দে। মন্দির দুটিতে ঈশানেশ্বর ও ত্র্যম্বকেশ্বর নামক জোড়া শিবলিঙ্গ নিত্য পূজিত।
নিত্যানন্দপুরের এই জোড়া শিবমন্দিরে যেতে হলে হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে কাটোয়া লোকাল ধরুন। ব্যাণ্ডেল থেকেও কাটোয়া লোকাল পাবেন। স্টেশনের পূর্ব দিকে টিকিট ঘরের পাশ থেকে গোপালপুর যাওয়ার অটোতে নিত্যনন্দপুরের মোড়ে নামুন। সেখান থেকে হেঁটে মন্দির। ৬ নং জাতীয় সড়ক ধরেও যেতে পারেন।
সহায়ক গ্রন্থ :
১) হুগলি জেলার ইতিহাস ( ২ য় ভাগ ) : সুধীর কুমার মিত্র
নিত্যানন্দপুরের এই জোড়া শিবমন্দিরে যেতে হলে হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে কাটোয়া লোকাল ধরুন। ব্যাণ্ডেল থেকেও কাটোয়া লোকাল পাবেন। স্টেশনের পূর্ব দিকে টিকিট ঘরের পাশ থেকে গোপালপুর যাওয়ার অটোতে নিত্যনন্দপুরের মোড়ে নামুন। সেখান থেকে হেঁটে মন্দির। ৬ নং জাতীয় সড়ক ধরেও যেতে পারেন।
![]() |
| জোড়া শিবমন্দির, নিত্যানন্দপুর |
![]() |
| একটি মন্দিরের সামনের বিন্যাস |
![]() |
| একটি মন্দিরের খিলানের উপরের কাজ |
![]() |
| মন্দিরের টেরাকোটার কাজ - ১ |
![]() |
| মন্দিরের টেরাকোটার কাজ - ২ |
![]() |
| একটি মন্দিরের শিবলিঙ্গ |
সহায়ক গ্রন্থ :
১) হুগলি জেলার ইতিহাস ( ২ য় ভাগ ) : সুধীর কুমার মিত্র
----------------------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন