বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৭

Damodar Temple, Hamirbati, Arambagh, Hooghly, West Bengal


দামোদর  মন্দির,  হামিরবাটি,  আরামবাগ,  হুগলি 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            রেলপথে  হাওড়া  থেকে  আরামবাগের  দূরত্ব  ৮২ কিমি।  ট্রেনে  সময়  লাগে  ২  ঘন্টা।  আরামবাগ  থানা  ও  ব্লকের  অন্তর্গত  মাধবপুর  পঞ্চায়েত  এলাকায়  অবস্থিত  একটি  গ্রাম  হামিরবাটি।  এখানে  যেতে  হলে  প্রথমে  মায়াপুরে  আসতে  হবে।  মায়াপুর  থেকে  সহজেই  হামিরবাটি  যাওয়া  যায়। 

            এখানে  স্থানীয়  রায়  বংশ  কর্তৃক  প্রতিষ্ঠিত  দামোদর  মন্দির  উল্লেখযোগ্য।  এই  রায়রা  রণজিৎ  রায়ের  বংশধর। এঁদের  আর  এক  শরিক  বংশের  মাধবপুরের  গৃহে  একটি  আটচালা  মন্দিরে  শ্রীরাম / দামোদর  ( নারায়ণ  শিলা )  প্রতিষ্ঠিত।  মন্দিরটি  প্রায়  ভূমি  সমতলে  স্থাপিত,  পূর্বমুখী,  ত্রিখিলান  প্রবেশপথযুক্ত  ও  আটচালা  শৈলীর।  মন্দিরের  সামনে  অলিন্দ।  মন্দিরে  ঢোকার  দুটি  দরজা।  একটি  পূর্ব  দিকে,  অপরটি  উত্তর  দিকে।  নির্মাণকাল  ১৬২৬  শকাব্দ  অর্থাৎ  ১৭০৪  খ্রিষ্টাব্দ।  মন্দিরে  একটি  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে।  মন্দিরের  সামনের  দেওয়ালে  'টেরাকোটা'র  অলংকরণ  আছে।  এই  টেরাকোটার  বিষয় :  প্রতীক  শিবমন্দির  ও  তার  মধ্যে  শিবলিঙ্গ,  নানা  মূর্তি,  রাম-রাবণের  যুদ্ধ,  ফুলকারি  নকশা  ও  মহিষমর্দিনী  মূর্তি  ইত্যাদি।  গর্ভগৃহে  শ্রীশ্রী  দামোদর  ( নারায়ণ  শিলা )  নিত্য  পূজিত।   


শ্রীশ্রী দামোদর  মন্দির  

মন্দিরের  সামনের  বিন্যাস 

মন্দিরের  ত্রিখিলান  বিন্যাস

বাঁ  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ 

মাঝের  খিলানের  উপরের  কাজ 

রাম-রাবণের  যুদ্ধ 

ডান  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ

কুলুঙ্গির  মধ্যে  কাজ - ১

কুলুঙ্গির  মধ্যে  কাজ - ২

কুলুঙ্গির  মধ্যে  কাজ - ৩

কুলুঙ্গির  মধ্যে  কাজ - ৪

কুলুঙ্গির  মধ্যে  কাজ - ৫

কুলুঙ্গির  মধ্যে  কাজ - ৬

কুলুঙ্গির  মধ্যে  কাজ - ৭
কুলুঙ্গির  মধ্যে  কাজ - ৮

কুলুঙ্গির  মধ্যে  কাজ - ৯

প্রতিষ্ঠাফলক 

মহিষমর্দিনী  মূর্তি 

 শ্রীশ্রী দামোদর ( নারায়ণ  শিলা )

সহায়ক  গ্রন্থ : 
          ১)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য 

               -----------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।


বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৭

Shriram / Damodar Temple, Madhabpur, Arambagh, Hooghly


শ্রীরাম / দামোদর  মন্দির,  মাধবপুর,  আরামবাগ,  হুগলি

শ্যামল  কুমার  ঘোষ  

            রেলপথে  হাওড়া  থেকে  আরামবাগের  দূরত্ব  ৮২ কিমি।  ট্রেনে  সময়  লাগে  ২  ঘন্টা।  আরামবাগ  থানা  ও  ব্লকের  অন্তর্গত  মাধবপুর  পঞ্চায়েত  এলাকায়  অবস্থিত  একটি  গ্রাম  মাধবপুর।  এখানে  যেতে  হলে  প্রথমে  মায়াপুরে  আসতে  হবে।  মায়াপুর  থেকে  সহজেই  মাধবপুর  যাওয়া  যায়।

            এখানে  স্থানীয়  পূর্বতন  জমিদার  রায়  বংশ  কর্তৃক  প্রতিষ্ঠিত  শ্রীরাম / দামোদর  মন্দির  উল্লেখযোগ্য।  এই  রায়রা  রাজা  রণজিৎ  রায়ের  বংশধর।  এঁদের  আর  এক  শরিক  বংশের  হামিরবাটির  গৃহে  একটি  আটচালা  মন্দিরে  দামোদর  ( নারায়ণ  শিলা )  প্রতিষ্ঠিত।  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  পূর্বমুখী,  ত্রিখিলান  প্রবেশপথযুক্ত  আটচালা  শৈলীর  মন্দির।  মন্দিরের  সামনে  অলিন্দ।  মন্দিরে  ঢোকার  দুটি  দরজা।  একটি  পূর্ব  দিকে,  অপরটি  উত্তর  দিকে।  মন্দিরে  যে  সামান্য  কয়েকটি  টেরাকোটার  ফুল  অবশিষ্ট  আছে  তা  রঙের  প্রলেপে  এখন  ম্লান।  মন্দিরে  তিনটি  ফলক  লাগানো  আছে।  দুটি  টেরাকোটা  নির্মিত  ও  একটি  মার্বেল  পাথরের।  প্রথম  দুটি   ফলক  অনুযায়ী  কাল  ১৭০১  শকাব্দ  অর্থাৎ  ১৭৭৯  খ্রিষ্টাব্দ  এবং  ১৮৫৪  শকাব্দ  অর্থাৎ  ১৯৩২  খ্রিষ্টাব্দ।  প্রথমটি  মন্দিরের  প্রতিষ্ঠাকাল  এবং  দ্বিতীয়টি  সংস্কারকাল।  তৃতীয়টিতে  কাল  উল্লেখ  ২০০৫  খ্রিষ্টাব্দ  এটি  পুনঃপ্রতিষ্ঠা  কাল।  প্রথম  দুটি  ফলকে  'শ্রীরাম'  এবং  তৃতীয়টিতে  'দামোদর  জিউ'  উল্লেখ  আছে।  গর্ভগৃহে  শ্রীরাম / দামোদর  ( নারায়ণ  শিলা )  নিত্য  পূজিত।  মন্দিরে  বিশালাক্ষী  দেবীও  ঘটে  পূজিত  হন।  
      
শ্রীরাম / দামোদর  মন্দির,  মাধবপুর 

মন্দিরের  শিখরদেশ  

মন্দিরের  সামনের  বিন্যাস 

প্রথম  প্রতিষ্ঠাফলক 

আরও  দুটি  ফলক 

শ্রীরাম / দামোদর ( নারায়ণ  শিলা )

সহায়ক  গ্রন্থ : 
          ১)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য 

             -----------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

Kanakeshwar Shib Temple, Kanpur, Arambagh, Hooghly, West Bengal


কণকেশ্বর  শিবমন্দির,  কানপুর,  হুগলি 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ

            আরামবাগ  থানা  ও  ব্লকের  অন্তর্গত  মাধবপুর  পঞ্চায়েত  এলাকায়  অবস্থিত  একটি  গ্রাম  কানপুর।  মায়াপুর  থেকে  এখানে  যাওয়া  যায়।  এখানকার  কনকেশ্বর  শিবমন্দির  বিখ্যাত।

            অনেক  বার  সংস্কৃত  মন্দিরটির  স্থাপত্যগত  কয়েকটি  বৈশিষ্ট  আছে।  এটি  অল্প  উঁচু  ভিত্তিবেদির  স্থাপিত,  পশ্চিমমুখী  ও  একরত্ন  বা  এক  শিখরবিশিষ্ট  মন্দির।  শিখরটি  রেখ  ধরনের,  উপরাংশ  গম্বুজাকার। গর্ভগৃহের  সামনে  চারটি  খিলান  ও  দক্ষিণ  দিকে  তিনটি  খিলান  বিশিষ্ট  বারান্দা।  বারান্দার  ছাদ  আটচালা  বা  চারচালা  মন্দিরের  ছাদের  মতো  কিছুটা  অবতলিত  ও  বক্র  কার্নিসযুক্ত।  মন্দিরটি  উনিশ  শতকে  নির্মিত।  গর্ভগৃহে  কনকেশ্বর  শিব  নিত্য  পূজিত।  এই  শিব  স্বয়ম্ভু।   

            অনেক  আগে  এখানে  কঙ্কাবতী  নদী  বয়ে  যেত।  তার  চড়ে  কনক  সেন  কনকেশ্বর  শিবের  মন্দির  প্রতিষ্ঠা  করেন।  মন্দিরের  বর্তমান  সেবায়েত  আশিস  বন্দোপাধ্যায়।  চৈত্র  মাসে  শিবের  গাজন  উপলক্ষ্যে  এখানে  মেলা  বসে  তাতে  প্রচুর  লোকের  সমাগম  হয়।  মন্দিরটি  পশ্চিমবঙ্গ  সরকার  কর্তৃক  সংরক্ষিত। 


কনকেশ্বর  শিবমন্দির

মন্দিরের  সামনের  বিন্যাস 
মন্দিরের  শিখর 

মন্দিরের  সামনের  চারটি  খিলান 

একটি  স্তম্ভের  কাজ 

গর্ভগৃহের  স্বয়ম্ভু  শিব 
  

সহায়ক  গ্রন্থ : 
          ১)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য 

               ---------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

                

শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৭

Raghunandan Temple, Parul, Arambagh, hooghly District, West Bengal


শ্রীশ্রী রঘুনন্দন  মন্দির,  পারুল,  আরামবাগ,  হুগলি 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ

            রেলপথে  হাওড়া  থেকে  আরামবাগের  দূরত্ব  ৮২ কিমি।  ট্রেনে  সময়  লাগে  ২  ঘন্টা।  আরামবাগ  মহকুমার  অধীন  একটি  গ্রাম  পারুল।  স্টেশন  থেকে  অটো  বা  টোটোতে  সহজেই  পারুল  যাওয়া  যায়।  কলকাতা  থেকে  বাসেও  এখানে  যেতে  পারেন।  বাসে  গেলে  পারুল  স্টপেজে  নামতে  হবে।  পারুলে  দুটি মন্দির আছে।রঘুনন্দন  ও  বিশালাক্ষী।  আলোচ্য  রঘুনন্দন  মন্দিরটি  স্থানীয়  চক্রবর্তী  বংশ  কর্তৃক  প্রতিষ্ঠিত।  দৈর্ঘে  ৭ মি,  প্রস্থে  ৬ মি।  নির্মাণকাল  প্রতিষ্ঠাফলক  অনুযায়ী  ১৬৯৫  শকাব্দ  অর্থাৎ  ১৭৭৩ খ্রিষ্টাব্দ।  ( মন্দিরে  একটি  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে। )  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য  লিখিত  'হুগলী  জেলার  পুরাকীর্তি'  গ্রন্থে  নির্মাণকাল  ১৭৬৮  খ্রিষ্টাব্দ  বলে  উল্লেখ  আছে।  DAVID  J.  McCUTTCHION  তাঁর  'Late  Mediaeval  Temples  of  Bengal'  গ্রন্থে  ১৭৬৮  খ্রিষ্টাব্দ  বলে  উল্লেখ  করলেও  সঙ্গে  একটি  জিজ্ঞাসা  চিহ্ন  যোগ  করেছেন।  

            মন্দিরটি  উচ্চ  ভিত্তিবেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত, পূর্বমুখী,   ত্রিখিলান  প্রবেশপথযুক্ত  ও  আটচালা  শৈলীর।  মন্দিরের  সামনে  অলিন্দ।  মন্দিরের  সামনের দেওয়াল  'টেরাকোটা'  অলংকারে  অলংকৃত।  টেরাকোটার  বিষয়বস্তু :  রামরাবণের  যুদ্ধ,  কৃষ্ণলীলা,  দেবদেবী,  সঙ্গিনীসহ  পুরুষ,  নৌকা  বিলাস,  বন্দুক  হাতে  সাহেব,  নাচের  ভঙ্গিমা  ইত্যাদি।  গর্ভগৃহে  ঢোকার  একটিই  দরজা।  গর্ভগৃহে  শ্রীশ্রী রঘুনন্দন ( নারায়ণ  শিলা )  নিত্যপূজিত।


রঘুনন্দন  মন্দির,  পারুল,  আরামবাগ

মন্দিরের  সামনের  বিন্যাস

মন্দিরের  ত্রিখিলান  বিন্যাস

বাঁ  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ 

বাঁ  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ ( বড়  করে )

মাঝের  খিলানের  উপরের  কাজ

মাঝের  খিলানের  উপরের  কাজ ( বড়  করে )

ডান  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ

ডান  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ  ( বড়  করে )

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  'টেরাকোটা'র  কাজ - ১


ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  'টেরাকোটা'র  কাজ - ১ক

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  'টেরাকোটা'র  কাজ - ১খ

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  'টেরাকোটা'র  কাজ - ২

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  'টেরাকোটা'র  কাজ - 3

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৪

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৪ক 

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৪খ 

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৪গ 

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৪ঘ 

একটি  পূর্ণস্থম্ভে  মহিষমর্দিনী  মূর্তি 

পূর্ণস্থম্ভের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ১

পূর্ণস্থম্ভের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ২

পূর্ণস্থম্ভের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৩

পূর্ণস্থম্ভের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৪

পূর্ণস্থম্ভের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৫

প্রান্তবর্তী  অংশের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ১

প্রান্তবর্তী  অংশের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ২

প্রান্তবর্তী  অংশের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৩

প্রান্তবর্তী  অংশের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৪

প্রান্তবর্তী  অংশের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৫

কুলুঙ্গির  মধ্যের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ১

কুলুঙ্গির  মধ্যের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ২

কুলুঙ্গির  মধ্যের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৩

কুলুঙ্গির  মধ্যের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৪

কুলুঙ্গির  মধ্যের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৫

কুলুঙ্গির  মধ্যের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৬

কুলুঙ্গির  মধ্যের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৭

কুলুঙ্গির  মধ্যের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৮

কুলুঙ্গির  মধ্যের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ৯

কুলুঙ্গির  মধ্যের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ১০

কুলুঙ্গির  মধ্যের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ১১

কুলুঙ্গির  মধ্যের  'টেরাকোটা'র  কাজ - ১২

প্রতিষ্ঠাফলক 

মন্দিরের  শিখর

শ্রীশ্রী রঘুনন্দন ( নারায়ণ  শিলা )


সহায়ক  গ্রন্থ : 
          ১)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য 

               ---------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।