রাজরাজেশ্বর ও অন্যান্য মন্দির, সেনহাট, হুগলি
শ্যামল কুমার ঘোষ
হুগলি জেলার খানাকুল থানা ও ব্লকের অন্তর্গত একটি গ্রাম সেনহাট। খানাকুল থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত। তারকেশ্বর ও আরামবাগ থেকে সহজেই এখানে যাওয়া যায়।
একটু দূরে সিদ্ধেশ্বরী তলায় একটি আটচালা মন্দিরে শ্রীশ্রী সিদ্ধেশ্বরী মাতা ও শীতলেশ্বর জিউ পূজিত হন। মন্দিরটি অল্প উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, দক্ষিণমুখী ও ত্রিখিলান প্রবেশপথ যুক্ত। মন্দিরের সামনের দেওয়ালের দুপাশে ও উপরের এক সারি কুলুঙ্গির মধ্যে 'টেরাকোটা' মূর্তি আছে। তবে রঙের প্রলেপে সেগুলি খুবই ম্লান। খিলানের উপরে পঙ্খের কাজ আছে। পাশেই একটি মন্দিরে ধৰ্মরাজ পূজিত হন।
 |
| ধর্মরাজ ও সিদ্ধেশ্বরী মন্দির |
 |
| সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের টেরাকোটার কাজ - ১ |
 |
| সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের টেরাকোটার কাজ - ২ |
 |
| সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের টেরাকোটার কাজ - ৩ |
 |
| ধর্মরাজ মন্দির |
 |
| মন্দিরের পঙ্খের কাজ |
এই দুটি মন্দিরের দক্ষিণে একটি বারোচালা শিবমন্দির আছে। মন্দিরটি পশ্চিমমুখী, বক্রকার্নিস ও উচ্চ চূড়াবিশিষ্ট। বারোচালা মন্দির খুবই কম দেখা যায়। হুগলি জেলায় পাণ্ডুয়া থানার ইলছোবাতে আর একটি বারোচালা মন্দির আছে যদিও সেটি এটির মত উচ্চ চূড়াবিশিষ্ট নয়।
 |
| বারোচালা শিবমন্দির |
এই শিবমন্দিরের উত্তর-পশ্চিম কোণে একটি দোলমঞ্চ আছে। উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত দোলমঞ্চটি পঞ্চরত্ন ধরণের। কেদ্রীয় চূড়াটি উঁচু। প্রতিটি শিখরের উপরিভাগ রেখদেউল ধরণের আড়াআড়িভাবে খাঁজকাটা। চারটি স্তম্ভের উপর দোলমঞ্চটি দণ্ডায়মান। স্তম্ভগুলি পরস্পর ধনুরাকৃতি খিলানের দ্বারা সংযুক্ত।
 |
| পঞ্চরত্ন দোলমঞ্চ |
সহায়ক গ্রন্থ :
১) হুগলি জেলার পুরাকীর্তি : নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য
-----------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।