Terracotta temples of Jugaswara লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Terracotta temples of Jugaswara লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০২২

Jogeshwar and other Shib temples, Jogeshwar Temple Complex, Jugaswara, Burwan, Murshidabad


যোগেশ্বর  ও  অন্যান্য  শিব  মন্দির,  যোগেশ্বর মন্দির  চত্বর,  যুগশ্বরা,  বড়ঞা,  মুর্শিদাবাদ

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            মুর্শিদাবাদ  জেলার  বড়ঞা  থানা  ও  ব্লকের  অন্তর্গত  যুগশ্বরা  একটি  গ্রাম।  লোকমুখে  'যুগশরা'  নামে  পরিচিত। গ্রামটি  বেশ  প্রাচীন।  গ্রামে  যোগেশ্বর  শিব  মন্দির  প্রাঙ্গণে  অবস্থিত  যোগেশ্বর  শিব  ও  আরও  কয়েকটি  মন্দির  উল্লেখযোগ্য।  এই  যোগেশ্বর  শিবের  নাম  থেকেই  গ্রামের  নাম  হয়েছে  যুগশ্বরা।  জনশ্রুতি,  বীরভূমের  রাজা  রামজীবন  রায়  এই  যোগেশ্বর  শিব  মন্দির  প্রতিষ্ঠা  করেন।  গ্রামের  শেষ  প্রান্তে  অবস্থিত  এই  মন্দির  চত্বর  গাছগাছালিতে  ভরা।  মন্দির  চত্বরে  মোট  ১৩ টি  মন্দির  আছে।  এর  মধ্যে  ৯ টি  মন্দিরে  নিত্য  পূজা  অনুষ্ঠিত  হয়।  মন্দির  চত্বর  পশ্চিমবঙ্গ  সরকার  কর্তৃক  সংরক্ষিত। 

            রাস্তা  থেকে  তোরণদ্বার  দিয়ে  মন্দির  চত্বরে  প্রবেশ  করলে  বাঁ  দিকে  পড়বে  তিনটি  পশ্চিমমুখী  চারচালা  মন্দির।  মন্দির  তিনটি  একই  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত।  প্রতিটি  মন্দিরের  সামনের  দিকে  অল্প  টেরাকোটার  অলংকরণ  আছে। 

তিনটি পশ্চিমমুখী চারচালা মন্দির, ডান দিকে তোরণদ্বার 

তিনটি পশ্চিমমুখী চারচালা মন্দির

বাঁ দিকের মন্দির 

বাঁ দিকের মন্দিরের খিলানের উপরের কাজ 

মাঝের মন্দির

মাঝের মন্দিরের খিলানের উপরের কাজ 

ডান দিকের মন্দির

ডান দিকের মন্দিরের খিলানের উপরের কা 

            এর  পরে  পশ্চিম  দিকে  সামান্য  এগুলে  ডান  দিকে  দেখা  যাবে  একই  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত  চারটি  দক্ষিণমুখী  চারচালা  মন্দির।  মন্দিরগুলিতে  কোনো  অলংকরণ  নেই।

চারটি দক্ষিণমুখী চারচালা মন্দির

            পশ্চিম  দিকে  আরও  এগুলে  পড়বে  যোগেশ্বর  শিব  মন্দির।  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত  মন্দিরটি   দক্ষিণমুখী  চারচালা  শৈলীর।  মন্দিরটিতে  কোনো  অলংকরণ  নেই।  গর্ভগৃহে  অনেকটা  নিচে  সয়ম্ভূ  যোগেশ্বর  শিব  নিত্য  পূজিত।  মন্দিরটির  সামনে  একটি  অসমাপ্ত  নাটমন্দির  আছে।

যোগেশ্বর শিব মন্দির

যোগেশ্বর শিব

            এই  মন্দির  ছাড়িয়ে  আর  একটু   পশ্চিম  দিকে  এগুলে  পড়বে  একটি  টেরাকোটা  অলংকরণযুক্ত  মন্দির।  সামান্য  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত  মন্দিরটি  দক্ষিণমুখী  চারচালা  শৈলীর।   মন্দিরের  সামনের  দেওয়ালে  টেরাকোটার  অলংকরণ  আছে।  টেরাকোটার  বিষয় :  রামরাবণের  যুদ্ধ,  বেণু  কৃষ্ণ,  কুবলইপীড়  বধ,  কালী  ও  মহিষাসুরমর্দিনী  মূর্তি  ইত্যাদি।

দক্ষিণমুখী টেরাকোটা মন্দির

মন্দিরের সামনের বিন্যাস 

মন্দিরের খিলানের উপরের কাজ
( রামরাবণের  যুদ্ধ ) 

মন্দিরের খিলানের উপরের কাজ 
( রামরাবণের  যুদ্ধ )
 

টেরাকোটার ফুল 

কৃষ্ণের কুবলয়পীড় বধ ও বেণুকৃষ্ণ  

কৃষ্ণের কালীয় দমন 

কালী 

মহিষাসুরমর্দিনী 

কৃষ্ণের কুবলয়পীড় বধ

            এই  মন্দিরের  পরেই  আছে  তিনটি  পূর্বমুখী  মন্দির।  মাঝের  মন্দিরটি  পঞ্চরত্ন  ও  দুপাশের  মন্দির  দুটি  চারচালা  শৈলীর।  মন্দির তিনটিতে  কোন  অলংকরণ  নেই।  এই  মন্দির  এলাকার  দক্ষিণে  মা  কালীর  একটি  'থান'  আছে।

বাঁ দিকে পূর্বমুখী তিনটি মন্দির, ডান দিকে দক্ষিণমুখী টেরাকোটা মন্দির
  
            প্রতি  বছর  চৈত্র  মাসের  ২৩  তারিখ  থেকে  ২৭  তারিখ  পর্যন্ত  মন্দির  প্রাঙ্গণে  এক  উৎসব  অনুষ্ঠিত  হয়।  ২৩ শে  চৈত্র  যুগশ্বরা  গ্রাম  ও  আশপাশের  গ্রামের  শত  শত  ভক্ত  কাঁঠালিয়ার    কাছের  ভাগীরথী  থেকে  হেঁটে  জল  এনে  বাবা  যোগেশ্বরের  মাথায়  ঢালেন।  পাঁচদিন  ধরে  মন্দির  প্রাঙ্গণে  নানা  ধর্মীয়  অনুষ্ঠান  অনুষ্ঠিত  হয়।  ২৭  তারিখে  হয়  মহোৎসব।  এই  উপলক্ষ্যে  মন্দির  প্রাঙ্গণে  এক  মেলা  বসে।     

                           কী  ভাবে  যাবেন ?

            মুর্শিদাবাদ  জেলার  কান্দি  থেকে  বাসে  বড়ঞা  থানা।  সেখান  থেকে  টোটোতে  যুগশ্বরার  মন্দির।

                   -----------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।