Temples of Birbhum লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Temples of Birbhum লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০২২

Patbari of Ramkanai Thauur, Muluk, Bolpur, Birbhum

 

শ্রীশ্রী রামকানাই  ঠাকুরের পাটবাড়ি,  মুলুক, বোলপুর,  বীরভূম  

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            বীরভূম  জেলার  বোলপুর  থানার  অন্তর্গত,  বোলপুর-পালিতপুর  সড়কে  অবস্থিত  এবং  বোলপুর  থেকে  ৪  কিমি  দূরের  একটি  গ্রাম  মুলুক।  এখানে  শ্রীরামকানাই  ঠাকুরের  পাটবাড়ি  ও  সমাধি  আছে।  শ্রীচৈতন্য  মহাপ্রভুর  অন্যতম  পার্শ্ব  সহচর  পণ্ডিত  ধনঞ্জয়ের  কনিষ্ঠ  সহোদর  সঞ্জয়ের  পৌত্র  এবং  যদুচৈতন্যের  পুত্র  শ্রীরামকানাই  ঠাকুর  শ্রীচৈতন্যদেবের  প্রায়  শত  বৎসর  পরে  আবির্ভূত  হন। কথিত  আছে,  একনিষ্ঠ  সাধক  শ্রীরামকানাই  ঠাকুরের  গুণাবলী  এবং  অলৌকিক  ক্ষমতার  বিষয়ে  জানতে  পেরে  রাজনগর  রাজ  এই  সাধু সন্দর্শনে  আসেন।  ঠাকুরের  ক্ষমতায়  মুগ্ধ  হয়ে  দেবসেবার  জন্য  জমি  দান  করতে  ইচ্ছা  প্রকাশ  করলে  শ্রীরামকানাই  ঠাকুর  ভোগের  অন্ন  যতদূর  পর্যন্ত  ছড়াতে  পেরেছিলেন  সেই  সীমা  পর্যন্ত  সমস্ত  জমি  রাজনগর  রাজ  দেবসেবার  জন্য  দান  করেছিলেন। 

            এখানে  শ্রীরামকানাই  বৃন্দাবনের  গুপ্ত  অস্তিস্ত  অনুভব  করে  মুলুক  শ্রীপাটের  প্রতিষ্ঠা  করেন।  ঠাকুবাড়িতে  পাঁচখিলানবিশিষ্ট  একটি  দালান  মন্দিরে   কষ্টিপাথরের  শ্রীশ্রীরাধাবল্লভ  জিউর  ও  অষ্টধাতুর  শ্রীমতীর  মূর্তি  এবং  দারু  নির্মিত  শ্রীচৈতন্য  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  করেন।  দেবী  অপরাজিতা  ও  রামেশ্বর  শিবমন্দিরও  এখানে  অবস্থিত।

            রাধাবল্লভ  মন্দিরের  সামনে  একটি  চাঁদনি  আকৃতির  নাটমন্দির  বর্তমান।  মন্দিরে  কোন  অলঙ্করণ  নেই।  শ্রীরামকানাই  ঠাকুরের  আবির্ভাব  কালে  সমাজে  শাক্ত  ও  বৈষ্ণব  ধর্মাবলম্বীদের  মধ্যে  তীব্র  বৈরীভাব  বিদ্যমান  ছিল।  রামকানাই  ঠাকুর  ধর্মের  মধ্যে  সংকীর্ণতার  কোন  প্রশয়  না  দিয়ে  সমন্বয়  সাধন  করেন।  একদিকে  তিনি  যেমন  শ্রীচৈতন্য  বিগ্রহ  ও  রাধাকৃষ্ণের  যুগল-বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  করেন  তেমনি  শ্রীরামেশ্বর  শিব  এবং  অপরাজিতা  দেবীর  মূর্তি  স্থাপন  করে  শিব  ও  শক্তি  আরাধনার  ব্যবস্থা  করেন।  

            গোষ্ঠাষ্টমীর  সময়  চারদিনব্যাপী  মুলুকে  মেলা  হয়।  ওই  মেলায়  অন্যতম  আকর্ষণ  রসপর্যায়ের  কীর্তন  গান।  মেলায়  বিভিন্ন  স্থান  থেকে  আগত  অনেক  বাউলের  সমাবেশ  ঘটে। 


শ্রীরামকানাই ঠাকুরের পাটবাড়ির তোরণ-দ্বার   

পাটবাড়ির প্রবেশ-দ্বার 

শ্রীশ্রীরাধাবল্লভ মন্দির 

নাটমন্দির 

ফলক 

শ্রীরামকানাই ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত তমাল বৃক্ষ 

শ্রীরামকানাই ঠাকুরের কন্যার প্রতিষ্ঠিত অশ্বত্থ গাছ 

শ্রীরামকানাই ঠাকুরের সমাধি 

শ্রীশ্রীরাধাবল্লভ ও  অন্যান্য বিগ্রহ 

শ্রীশ্রীরাধাবল্লভ ও শ্রীমতি বিগ্রহ

            কলকাতা  থেকে  কী  ভাবে  যাবেন ?

            কলকাতা   থেকে  ট্রেনে  বোলপুর-শান্তিনিকেতন।  বোলপুরের  জামবুনি  বাসস্ট্যান্ড  থেকে  বাসে  উঠে  মুলুক  স্টপেজে  নামুন।  কাছেই  শ্রীরামকানাই  ঠাকুরের  পাটবাড়ি।

সহায়ক  গ্রন্থ :

               ১)  বীরভূম  জেলার  পুরাকীর্তি :  দেবকুমার  চক্রবর্তী 

 -------------------------------


অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। ববইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।




প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০

Nalateshwari Temple, Nalhati, Birbhum

 

নলাটেশ্বরী  মন্দির,  নলহাটি,  বীরভূম

                    শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            বীরভূম  জেলার  রামপুরহাট  মহকুমার  অন্তর্গত  নলহাটি  একটি  পৌর  শহর।  সম্ভবত  নল  রাজার  নাম  থেকে  নলহাটি  নামের  উৎপত্তি।  কারণ  দেবীর  নামানুসারে  নলহাটি  নামের  উৎপত্তি  হলে  পীঠমালা  মহাতন্ত্রে  "নলাহট্টাং  নলাপাতো  ..  "  লেখা  থাকতো  না।  সাহেবগঞ্জ  লুপ  লাইনে  অবস্থিত  নলহাটি  জংশন স্টেশন  পূর্ব  রেলের  অন্যতম  প্রধান  রেল  স্টেশন।  এখান  থেকে  একটি  শাখা  মুর্শিদাবাদ  জেলার  আজিমগঞ্জ  পর্যন্ত  গিয়েছে।  কলকাতা  থেকে  নলহাটির  দূরত্ব  ২৪২  কিমি।  কলকাতা / হাওড়া  থেকে  সোজা  এখানে  আসতে  হলে  হাওড়া  স্টেশন  থেকে  সকল  ৬  টা  ৫  মিনিটে  গণদেবতা  এক্সপ্রেসে  উঠুন।  নলহাটি  স্টেশনে  ১০  টা  ৩১  মিনিটে  এই  ট্রেন  পৌঁছে  যায়।  অন্য  ট্রেনে  রামপুরহাট  এসে  সেখান  থেকে  ট্রেনে  বা  গাড়িতেও  এখানে  আসা  যায়।  স্টেশনের  পশ্চিম  দিকে  ১.৬  কিমি  দূরে  একটি  ছোট  পাহাড়ের  অগ্নিকোণে  দেবী  'নলাটেশ্বরী'র  মন্দির।  স্টেশন  থেকে  অটোতে  সহজেই  মন্দিরে  পৌঁছানো  যায়।  থাকতে  হলে  আপনি  মন্দিরের  অতিথিনিবাসে  থাকতে  পারেন  আর  হোটেলে থাকতে  হলে  আপনাকে  রামপুরহাটে  থাকতে  হবে। 

            ৫১  সতীপীঠের  অন্যতম  ( ১৮  নম্বর )  শক্তিপীঠ  'নলাটেশ্বরী'।  এখানে  উল্লেখ্য,  বীরভূমে  পাঁচটি  সতীপীঠ  বর্তমান।  পীঠনির্ণয়  তন্ত্রে  উল্লেখ  আছে,  বিষ্ণুচক্রে  কর্তিত  সতীর  দেহাংশের  'নলা'  বা  কণ্ঠনালী  পতিত  হওয়ায়  নলহাটিতে  দেবী  কালিকা  এবং  ভৈরব  যোগেশ  বিরাজ  করছেন।  কেউ  কেউ  দেবীর  নাম  বলেন  'ললাটেশ্বরী'।  তাঁদের  মতে,  এখানে  দেবীর  ললাট  পড়েছিল  তাই  দেবীর  নাম  'ললাটেশ্বরী'।  তা  কিন্তু  সঠিক  নয়।  সম্ভবত  'নলহাট্টেশ্বরী'  থেকে  অপভ্ৰংশে  'ললাটেশ্বরী'  হয়েছে।  কারণ  তন্ত্রে  নলাপাতের  কথাই  বলা  হয়েছে।  পাহাড়ে  অধিষ্ঠিতা  বলে  তিনি  পার্বতী  নামেও  পরিচিতা  হয়েছেন।  আবার  মাকে  'শেফালিকা'  নামেও  ডাকা  হয়। 

            চারচালা  মন্দিরের  সামনে  প্রাচীন  স্থাপত্যের  কিছু  কিছু  নিদর্শন  এখনও  রয়েছে।  মন্দিরের  গর্ভগৃহে  সিঁদুরচর্চিত  মা  নলাটেশ্বরী  বিরাজমান।  পাথরের  উপর  বসানো  ত্রিনয়নী  মায়ের  মুখ।  দু  দিকের  দাঁতের  মধ্যে  রয়েছে  সোনার  তৈরি  জিব।  উপরে  রয়েছে  রুপোর  ছাতা।  সিঁদুরচর্চিত  এই  মুখমণ্ডলের  নিচে  রয়েছে  মায়ের  কন্ঠনালী।  ভোরবেলায়  মায়ের  স্নান  ও  শৃঙ্গারের  সময়ে  এই  কণ্ঠনালীর  দর্শন  পান  দর্শনার্থীরা।  এখন  যেমন  মায়ের  মুখমণ্ডল  দেখা  যায়  প্রথমে  তা  ছিল  না।  কৃষ্ণ  বসাক  নামে  এক  স্বর্ণকার  মায়ের  এই  রূপ  দিয়েছিলেন।  গর্ভগৃহে  ঢোকার  মুখে,  উপরে  রয়েছে  গণেশ  মূর্তি,  তাকে  ঘিরে  রয়েছে  আটটি  সাপ।  মন্দিরের  উত্তর  দিকে  অবস্থিত  পঞ্চমুন্ডির  আসন।  অনেক  সাধক   এই  পঞ্চমুন্ডির  আসনে  সিদ্ধি  লাভ  করেছেন।            

            সারা  বছর  কালী  রূপে  পূজিত  হলেও  দুর্গাপূজার  চারদিন  মাকে  দুর্গা  রূপে  পূজা  করা  হয়।  এই  মন্দিরে  এখনও  বলি  প্রথা  চালু  আছে।  দুর্গাপূজার  নবমী  ও  কালীপূজার  দিন  অবশ্যই  মন্দিরে   বলি  হয়।  মা  নলাটেশ্বরীর  নিত্য  অন্যসেবা  হয়।  ভক্তরা  চাইলে  মন্দির  কর্তৃপক্ষের  সঙ্গে  কথা  বলে  অন্নপ্রসাদ  পেতে  পারেন। 

নলাটেশ্বরী মন্দির 
মন্দিরের সামনের কাজ 
গর্ভগৃহে মা নলাটেশ্বরী
গর্ভগৃহের সামনের গণেশ মূর্তি ও আটটি  সাপ। 
মা নলাটেশ্বরী- ১
মা নলাটেশ্বরী - ২
পাশের মন্দিরের গনেশ মূর্তি 
পাশের মন্দিরের সামনের কাজ - ১
পাশের মন্দিরের সামনের কাজ - ২
পাশের মন্দিরের সামনের কাজ - ৩
পাশের মন্দিরের সামনের কাজ - ৪
পাশের মন্দিরের সামনের কাজ - ৫
পাশের মন্দিরের সামনের কাজ - ৬

সহায়ক  গ্রন্থাবলি :
                  ১)  বীরভূম  বিবরণ ( ২য়  খণ্ড ) :  মহিমানিরঞ্জন চক্রবর্তী  তত্ত্বভূষণ 
                  ২)  বীরভূম  জেলার  পুরাকীর্তি :  দেবকুমার  চক্রবর্তী                 -----------------------------------------------------------


অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।




প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২০

ShriShri Guhyakalika Temple, Akalipur, Birbhum


শ্রীশ্রীগুহ্যকালিকা  মন্দির,  আকালিপুর,  বীরভূম 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 
    
            বীরভূম  জেলার  নলহাটি  থানার  অন্তর্গত  একটি  গ্রাম  আকালিপুর।  গ্রামটি  মহারাজা  নন্দকুমারের  জন্মস্থান  ভদ্রপুরের  সংলগ্ন।  পূর্ব  রেলপথের  আজিমগঞ্জ-নলহাটি  শাখার  লোহাপুর  রেলস্টেশন  থেকে  সহজেই  এই  গ্রামে  যাওয়া  যায়। 

            গ্রামের  দক্ষিণে  মহারাজ  নন্দকুমার  প্রতিষ্ঠিত  সর্পাসীনা,  সর্পাভরণে  ভূষিতা,  বরাভয়দায়িনী,  দ্বিভুজা,  জগন্মাতা  শ্রীশ্রীগুহ্যকালিকা  মাতার  মন্দিরটি  দ্রষ্টব্য। 

            উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  দক্ষিণমুখী,  ইঁটের  তৈরি  মন্দিরটি  অষ্টকোণাকৃতি।  গর্ভগৃহের  চারদিকে  প্রদক্ষিণ  করার  পথ  আছে।  মন্দিরের  তিনটি  প্রবেশদ্বার।  মূলদ্বারটি  দক্ষিণ  দিকে।  এছাড়া  আরও  দুটি  প্রবেশদ্বার  আছে,  একটি  পূর্ব  দিকে,  অপরটি  পশ্চিম  দিকে।  মন্দিরের  চৌকাঠগুলি  ব্যাসাল্ট ( Basalt )  পাথরে  নির্মিত।  জনশ্রুতি,  এই  মন্দিরটি  নির্মাণকালে  হঠাৎ  মন্দিরটির  দেওয়াল  ফেটে  যায়  এবং  রাতে  দেবী  স্বপ্নে  দেখা  দিয়ে  বলেন  যেহেতু  তিনি  স্মশানবাসিনী  তাই  তাঁর  জন্য  মন্দিরের  দরকার  নেই।  মন্দিরের  উত্তর-পূর্ব  দিকের  দুটি  ফাটল  এখনও  সেই  ঘটনার  সাক্ষী  দেয়।  মন্দিরটি  ১১৭৮  বঙ্গাব্দের  ১১ ই  মাঘ  রটন্তী  কালী  পুজোর  দিন  প্রতিষ্ঠিত  হয়।  ইং  ২০০৪  সালে  আকালিপুর  গ্রামের  সত্যব্রত  মুখোপাধ্যায়ের  কন্যা  মধুমিতা  মুখোপাধ্যায়  মন্দিরটির  সংস্কার  করেন। 

            গর্ভগৃহে  শ্রীশ্রীগুহ্যকালিকা  মাতার  কাল  পাথরের  মনমুগ্ধকর  মূর্তি  নিত্য  পূজিত।  প্রতি  বছর  মাঘ  মাসের  রটন্তী  কালী  পুজোর  দিন  মহা  সমারোহে  দেবীর  পূজা  অনুষ্ঠিত  হয়। 
 
শ্রীশ্রীগুহ্যকালিকা  মাতার  মন্দির - ১

শ্রীশ্রীগুহ্যকালিকা  মাতার  মন্দির - ২

শ্রীশ্রীগুহ্যকালিকা  মাতা - ১

      ------------------------------------------------


অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।




প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।