Mandan Gopal Mandir Santipur Nadia লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Mandan Gopal Mandir Santipur Nadia লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৫

ShriShri Madan Gopal Jiu Temple, Santipur, Nadia

     

  শ্রীশ্রী  মদন  গোপাল  জিউ  মন্দির, শান্তিপুর,  নদিয়া  

         শ্যামল কুমার  ঘোষ 

            ১৪৩৪  খ্রিস্টাব্দে  শ্রীঅদ্বৈতাচার্য  শ্রীহট্টের  অন্তর্গত  লাউড়  পরগণার  নবগ্রাম  নামক  পল্লীতে  জন্মগ্রহণ  করেন।  তাঁর  পিতার  নাম  কুবের  মিশ্র,  মাতা  লাভাদেবী।  কুবের  আচার্য  লাউরের  রাজা  দিব্যসুন্দরের  সভাপণ্ডিত  ছিলেন।  অদ্বৈতাচার্য়ের   বাল্যকালের  নাম  কমলাক্ষ।  বারো  বছর  বয়সে  তিনি  শান্তিপুরে  আসেন  স্মৃতি  শাস্ত্র  ও  ন্যায়  শাস্ত্র  পড়ার  জন্য।  শান্তিপুরের অন্তর্গত  পূর্ণবাটী  গ্রাম  নিবাসী  শান্ত  বেদান্তবাগীশ  নামক  জনৈক  অধ্যাপকের   কাছে  বেদচতুষ্টয়  অধ্যয়ন  করে  তিনি  "বেদ  পঞ্চানন" ও  "অদ্বৈত  আচার্য"  উপাধি  লাভ  করেন।  বিদ্যাশিক্ষা  শেষ  করে  তিনি  স্থ্যায়ীভাবে  শান্তিপুরে  বসবাস  করতে  মনস্থ  করেন।

            শ্রীঅদ্বৈতাচার্য  শ্রীধাম  বৃন্দাবনে  তাঁর  গুরু  পরম  ভাগবত  শ্রীমাধবেন্দ্র  পুরীর  কাছ  থেকে  মদন  গোপাল  বিগ্রহটি  পেয়ে  শান্তিপুরে  নিয়ে  আসেন  এবং  তাঁর  বাবলার  আশ্রমে  প্রতিষ্ঠা  করেন।  মূর্তিটি  দারু  নির্মিত।

            শ্রীঅদ্বৈতাচার্য  ১২৫  বছর  ধরাধামে  লীলা  করেন।  তাঁর  ছয়  পুত্র  ছিল। জ্যেষ্ঠ  পুত্র  শ্রীঅচ্যুতানন্দ,  দ্বিতীয়  শ্রীকৃষ্ণ  মিশ্র, তৃতীয়  গোপাল,  চতুর্থ  বলরাম, পঞ্চম  স্বরূপ  ও  ষষ্ঠ  জগদীশ।  তাঁর  জ্যেষ্ঠ  পুত্র  অচ্যুতানন্দ  বাল্যকাল  থেকেই  সংসার  বিরাগী  ছিলেন,  সেইজন্য  শ্রীঅদ্বৈতাচার্য  তাঁর  দ্বিতীয়  পুত্র  শ্রীকৃষ্ণ  মিশ্র  কে  মদন  গোপালের  সেবা  ও পূজার  ভার  অর্পণ  করেন।  কৃষ্ণ  মিশ্র  বাবলা  ত্যাগ  করে  শান্তিপুরের  বর্তমান  মদন  গোপাল  পাড়ায়  এসে  নিজ  ভদ্রাসন  নির্মাণ  করেন  এবং  মদন  গোপাল  বিগ্রহ  কে  পাঁচ  খিলান  বিশিষ্ট  এক  দালান  মন্দিরে  প্রতিষ্ঠা  করেন।  মন্দিরে  মদন  গোপাল  বিগ্রহ  ছাড়াও  শ্রীঅদ্বৈত  প্রভু  ও  তাঁর  পত্নী  সীতাদেবীর  মূর্তিও  আছে।  মন্দিরের  সামান্য  দূরে  একটি  রাসমন্দিরও  বর্তমান।  মদন  গোপালের  নামানুসারে  পাড়ার  নাম  হয়  মদনগোপাল  পাড়া।  মদন  গোপাল  বিগ্রহকে  কেন্দ্র  করে  অনেক  অলৌকিক  কাহিনী  প্রচলিত  আছে।

            এই  প্রসঙ্গে  উল্লেখ্য,  শ্রীকৃষ্ণ  মিশ্রের  বংশে  একাধিক  মহাপণ্ডিতের  জন্ম  হয়েছে।  তাঁদের  মধ্যে  উল্লেখযোগ্য  হলেন  রাধিকানাথ  গোস্বামী  ( চৈতন্য  চরিতামৃতের  ভাষ্য  রচয়িতা ),  রাধাবিনোদ  গোস্বামী  ( শ্রীমদ্  ভাগবতের  ব্যাখ্যাকর্তা ),   জিতেন্দ্রনাথ  গোস্বামী  ( ভাগবত  ভাষ্যকার ),  নৃসিংহ  প্রাসাদ  গোস্বামী  ( ভাগবত  ভাষ্যকার ),  পণ্ডিত  কৃষ্ণচন্দ্র  গোস্বামী ( ভাগবত  অমৃত  রচয়িতা ),  পণ্ডিত  হরিশচন্দ্র  গোস্বামী  (পুরাণাদির  ব্যাখ্যাকার ), পণ্ডিত  বিশ্বেশ্বর  গোস্বামী  ( দর্শন  শাস্ত্রে  সুপণ্ডিত  ও  সংক্ষিপ্ত  মহাভারত  কাব্য  প্রণেতা ),  রামকৃষ্ণ  গোস্বামী  ( বৈষ্ণব  অভিধান  গ্রন্থের  রচনাকার )  এবং  পণ্ডিত  শ্যামসুন্দর  গোস্বামী  ( সংস্কৃত  ব্যাকরণ  কৌমুদীর  প্রণেতা )  প্রভৃতি।

            শান্তিপুরে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩ কিমি।  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন। 

শ্রীশ্রী মদন গোপাল জিউ  মন্দির

শ্রীশ্রী মদন গোপাল  ও  অন্যান্য  বিগ্রহ

অন্যান্য  বিগ্রহ 

শ্রীশ্রী মদন গোপাল  বিগ্রহ

শ্রীঅদ্বৈত  প্রভু  ও  সীতাদেবীর  মূর্তি

রাসমান্দির 

সহায়ক  গ্রন্থাবলি   :
  

                               ১. বাংলায়  ভ্রমণ  ( ১ ম  খণ্ড ) :  পূর্ববঙ্গ  রেলপথের  প্রচার  বিভাগ  কর্তৃক  প্রকাশিত 
                     ২. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা   
                        ৩. পশ্চিমবঙ্গ  ভ্রমণ  ও  দর্শন ভূপতিরঞ্জন  দাস 
    
                        -----------------------
  
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।