চন্দ্রনাথ শিব মন্দির, হেতমপুর, বীরভূম
শ্যামল কুমার ঘোষ
বীরভূম জেলার দুবরাজপুর থানার অন্তর্গত এবং দুবরাজপুর থেকে ৩.৬ কিমি পূর্বে অবস্থিত হেতমপুর একটি সমৃদ্ধিশালী গ্রাম। গ্রামে হেতমপুরের তৎকালীন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কর্তৃক ১২৫৪ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত চন্দ্রনাথ শিব মন্দিরটি উল্লেখযোগ্য। শোনা যায়, বাংলার মন্দির গবেষণার পথিকৃৎ ডেভিড ম্যাককাচ্চান প্রখ্যাত চলচিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের আহ্বানে এই হেতমপুরে আসেন এবং এই চন্দ্রনাথ শিব মন্দিরের কারুকার্য দেখে বাংলার মন্দির গবেষণার কাজে ব্রতী হন।
উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, পূর্বমুখী মন্দিরটি রাসমঞ্চের আকৃতিবিশিষ্ট, অষ্টকোণাকৃতি ও নয়টি চুড়াযুক্ত। মন্দিরের সামনের তিনটি দিক টেরাকোটা অলংকারে অলংকৃত। টেরাকোটা ফলকে গণেশজননী, জগদ্ধাত্রী, nude woman, সিংহবাহিনী প্রভৃতি হিন্দু পৌরাণিক ও সামাজিক দৃশ্যাবলী রূপায়ণ ছাড়াও ইউরোপীয় প্রভাবে মন্ডিত শিল্পশৈলীর সার্থক রূপায়ণ এই মন্দিরে প্রকাশ হয়েছে। মন্দিরে ইউরোপীয় প্রভাবে উৎকীর্ণ বিভিন্ন জননায়ক, কবি, রানি ভিক্টোরিয়া ইত্যাদির প্রতিকৃতি ছাড়াও ইউরোপীয় অলংকার শৈলীও সুন্দরভাবে মৃৎফলকে রূপায়িত দেখা যায়। মন্দির চূড়ায় প্রতিষ্ঠিত মূর্তিগুলি দেবদূত দেবকন্যাগণকে সূচিত করে। ইউরোপীয় নরনারীর মুখাবয়বগুলি মৃৎফলকে সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ইংরেজ শাসকদের সুনজরে থাকার জন্যই সম্ভবত মন্দিরটি এমনভাবে মন্ডিত করা হয়েছিল। ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরটির পূর্ণ সংস্কার করা হয়। মন্দিরে একটি শ্বেতপাথরের ফলক লাগানো আছে। গর্ভগৃহে শ্বেতপাথরের শিবলিঙ্গ নিত্য পূজিত। বাংলার টেরাকোটা মন্দিরগুলির মধ্যে এই চন্দ্রনাথ শিব মন্দিরটি সত্যই অনন্য। মন্দিরটি রাজ্যসরকার কর্তৃক সংরক্ষিত।
 |
| চন্দ্রনাথ শিব মন্দির, হেতমপুর, বীরভূম |
 |
| বাঁ দিকের দেওয়ালের বিন্যাস |
 |
| বাঁ দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ১ |
 |
বাঁ দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ২
|
 |
বাঁ দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৩
|
 |
বাঁ দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৪
|
 |
বাঁ দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৫
|
 |
বাঁ দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৬
|
 |
বাঁ দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৭
|
 |
বাঁ দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৮ ( দেবী জগদ্ধাত্রী ) |
 |
মাঝের দেওয়ালের বিন্যাস
|
 |
মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ১
|
 |
| মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ২ |
 |
মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৩ ( রানি ভিক্টোরিয়া ) |
 |
মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৪ ( দেবী সিংহবাহিনী ) |
 |
মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৫ ( Coat of Arms ) |
 |
| মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৬ |
 |
মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৭ ( রানি ভিক্টোরিয়া ) |
 |
মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৮ ( মুখের সারি ) |
 |
মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৯ ( মুখের সারি ) |
 |
| মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ১০ |
 |
মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ১১ ( Coat of Arms ) |
 |
| মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ১২ |
 |
মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ১৩ ( দুই ইংরেজ রমণী ) |
 |
মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ১৪ ( কমলে কামিনী মূর্তি ) |
 |
মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ১৫ ( Coat of Arms ) |
 |
| মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ১৬ |
 |
| মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ১৭ |
 |
| মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ১৮ |
 |
মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ১৯ ( Coat of Arms ) |
 |
মাঝের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ২০ ( শিব শিশু গণেশকে পার্বতীর কোল থেকে নিজের কোলে নিচ্ছেন ) |
 |
| ডান দিকের দেওয়ালের বিন্যাস |
 |
| ডান দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ১ |
 |
| ডান দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ২ |
 |
| ডান দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৩ |
 |
ডান দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৪ ( কৃষ্ণ-রাধিকা ) |
 |
| ডান দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৪ |
 |
ডান দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৫ ( nude woman )
|
 |
ডান দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৬ ( চিন্তামগ্ন ইংরেজ রমণী ) |
 |
| ডান দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৭ |
 |
| ডান দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৮ |
 |
ডান দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ৯ ( রানি ভিক্টোরিয়া ) |
 |
| ডান দিকের দেওয়ালের টেরাকোটা ফলক - ১০ |
 |
| মন্দিরের চূড়া |
 |
| চন্দ্রনাথ শিবলিঙ্গ |
 |
প্রতিষ্ঠাফলক
|
কলকাতা থেকে কী ভাবে যাবেন ?
কলকাতা থেকে ট্রেনে বোলপুর-শান্তিনিকেতন। বোলপুরের জামবুনি বাসস্ট্যান্ড থেকে দুবরাজপুর গামী বাসে হেতমপুর মোড়ে নামুন। সেখান থেকে টোটোতে বা হেঁটে মন্দির।
সহায়ক গ্রন্থ :
১) বীরভূম জেলার পুরাকীর্তি : দেবকুমার চক্রবর্তী
-------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
অসাধারণ মন্দির স্থাপত্য। পৌরাণিক টেরাকোটা সমৃদ্ধ, এছাড়াও ইউরোপীও
উত্তরমুছুননর নারী, রাণী ভিক্টোরিয়া, ব্রিটিশ শাসনের ফলক, নগ্ন নারী মূর্তি,নারীলোলুপ জমিদার বা কোন সাহেব পিছনে দাঁড়িয়ে। বাংলার বিভিন্ন
রাজা, জমিদারদের ইংরেজশাসকগণের
প্রতি তোষামোদ দেখানো বা সুনজরে থাকা। আমাদের সংস্কৃতিকে আঘাত
করা। নারী জাতিকে মাতৃরূপে না দেখে
ঘৃণার চোখে দেখা।
স্থাপত্য শিল্পীদের শ্রদ্ধা জানাই।
দুর্গা শঙ্কর দীর্ঘাঙ্গী, জয়ন্তিপুর
চন্দ্রকোণা, পশ্চিম মেদিনীপুর।