বিশালাক্ষী মন্দির, বিক্রমপুর, পারুল,
আরামবাগ, হুগলি
শ্যামল কুমার ঘোষ
রেলপথে হাওড়া থেকে আরামবাগের দূরত্ব ৮২ কিমি। ট্রেনে সময় লাগে ২ ঘন্টা। আরামবাগ মহকুমার অধীন একটি গ্রাম পারুল। স্টেশন থেকে অটো বা টোটোতে সহজেই পারুল যাওয়া যায়। কলকাতা থেকে বাসেও এখানে যেতে পারেন। বাসে গেলে পারুল স্টপেজে নামতে হবে। পারুলে দুটি মন্দির আছে।রঘুনন্দন ও বিশালাক্ষী। বিশালাক্ষী মন্দিরের গায়ে জায়গার নাম বিক্রমপুর বলে উল্লেখ আছে। রঘুনন্দন মন্দিরের বিবরণ আগেই দিয়েছি। আলোচ্য বিশালাক্ষী মন্দিরের বিবরণ এখানে দেব। রঘুনন্দন মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন :
বিশালাক্ষী মন্দিরটি উঁচু ভিত্তিবেদির উপর প্রতিষ্ঠিত, দক্ষিণমুখী ও আটচালা শৈলীর। মন্দিরে আছে তিনটি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ। নির্মাণকাল ১৮৫৯ খ্রীষ্টাব্দ ( ১৭৮১ শকাব্দ ) বা ১২৬৬ বঙ্গাব্দ। ( এখানে উল্লেখ্য, শকাব্দ + ৭৮ = খ্রীষ্টাব্দ এবং খ্রীষ্টাব্দ - ৫৯৩ = বঙ্গাব্দ )। মন্দিরে একটি ক্ষয়িষ্ণু প্রতিষ্ঠাফলক আছে। মন্দিরের সামনে 'টেরাকোটা'র অলংকরণ আছে। তবে বার বার রং করার ফলে এই 'টেরাকোটা' শ্রী হারিয়েছে। মন্দিরে টেরাকোটার বিষয়বস্তু : রামরাবণের যুদ্ধ, সপারিষদ মহাপ্রভুর সংকীর্তনের দৃশ্য, অনন্তশায়ী বিষ্ণু, সমুদ্র মন্থন, বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি, ছেলে কাঁকে মহিলা, হুঁকা সেবন ইত্যাদি। গর্ভগৃহের প্রবেশদ্বারের দুপাশে আছে দুটি দ্বারপালের মূর্তি। গর্ভগৃহে দেবী বিশালাক্ষী নিত্য পূজিতা।মন্দিরের সামনে একটি টিনের চালের নাটমন্দির আছে।
এই মন্দির ও নিকটস্থ দীঘি স্থানীয় জমিদার রণজিৎ রায়ের কীর্তি। এই মন্দির নিয়ে একটি লোকশ্রুতি প্রচলিত আছে। রণজিৎ রায়েকে দেবী বিশালাক্ষী প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর কন্যা হয়ে জন্মাবেন কিন্তু যদি কোনদিন তাঁকে চলে যেতে বলা হয় তবে তিনি তৎক্ষণাৎ চলে যাবেন। একদিন বারুণী উৎসবের দিন কন্যারূপী দেবী রণজিৎ রায়ের কাছ থেকে স্নানে যাওয়ার অনুমতি চান। অন্যমনস্কভাবে তিনি অনুমতি দেন। অতঃপর দেবী চিরকালের জন্য ওই দীঘির জলে বিলীন হয়ে যান।
মন্দিরটি পরিদর্শনের তারিখ : ১১.১১.২০১৭
![]() |
| মন্দিরের সামনের বিন্যাস |
![]() |
| বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ |
![]() |
| মাঝের খিলানের উপরের কাজ |
![]() |
| ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ |
![]() |
| কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ১ |
![]() |
| কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ২ |
![]() |
| কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ৩ |
![]() |
| কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ৪ |
![]() |
| কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ৫ |
![]() |
| প্রতিষ্ঠাফলক |
![]() |
| প্রবেশদ্বারের ডান দিকের দ্বারপাল |
![]() |
| মন্দিরের গর্ভগৃহ |
![]() |
| মা বিশালাক্ষী |
সহায়ক গ্রন্থ :
১) হুগলি জেলার পুরাকীর্তি : নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য -----------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
















