লক্ষ্মীজনার্দন ও গোপাল মন্দির, ঘুড়িষা, ইলামবাজার, বীরভূম
শ্যামল কুমার ঘোষ
বীরভূম জেলার ইলামবাজার ব্লক ও থানার অন্তর্গত ঘুড়িষা একটি শহর। এখানে যেতে হলে বোলপুরের জামবুনি বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠে ঘুড়িষা আমবাগান স্টপেজে নামুন। সেখান থেকে টোটোতে বা হেঁটে ঘুড়িষা। শহরের বেনে পাড়ায় ইঁটের তৈরি লক্ষ্মীজনার্দন ( শালগ্রাম শিলা ) ও গোপাল মন্দিরটি এখানকার অন্যতম দ্রষ্টব্য। মন্দিরের প্রতিষ্ঠিতা ক্ষেত্ৰনাথ দত্ত। তিনি জাতিতে ছিলেন গন্ধবণিক। ১১৪৫ বঙ্গাব্দে ( ১৭৩৮ খ্রীষ্টাব্দে ) মন্দিরটি প্রতিষ্টিত হয়।
অল্প উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, ত্রিখিলান প্রবেশপথবিশিষ্ট, পূর্বমুখী মন্দিরটি নবরত্ন শৈলীর। এই নবরত্ন মন্দিরে ইউরোপীয় স্থাপত্যের প্রভাবে ছাদের গঠনে বক্রতা না করে সমতল করা হয়েছে। মন্দিরের প্রবেশদ্বার পূর্ব দিকে। মন্দিরের সামনের দেওয়াল 'টেরাকোটা' অলংকরণে অলংকৃত। উত্তর দিকেও কিছু 'টেরাকোটা' ফলক আছে। সামনের ত্রিখিলান প্রবেশ পথের উপরের বাঁ দিকে ছোট ছোট খোপে গনেশ-জননী ও অন্যান্য মূর্তি, মাঝের উপরে সংকীর্তনরত শ্রীচৈতন্য ও নিত্যানন্দ মহাপ্রভু ও নিচে রাইরাজা ও ডান দিকে ত্রিপুরাসুন্দরীর মূর্তি। উপরিভাগে লম্বা ফলকের মধ্যে সিংহাসনে উপবিষ্ট রাম-সীতা। ডান দিকে কৌণিক ফলকে আছে দক্ষিনা কালী মূর্তি। এ ছাড়া কুলুঙ্গির মধ্যে আছে দশমহাবিদ্যা, দশাবতার, রাধাকৃষ্ণ, ইউরোপীয় বেশবাসে সজ্জিতা মহিলা ইত্যাদি মূর্তি । উত্তর দিকের দেওয়ালের বাঁ দিকের কৌণিক ফলকে মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তিটিও দর্শনীয়। মন্দিরের গর্ভগৃহে লক্ষ্মীজনার্দন ( শালগ্রাম শিলা ) ও গোপাল মূর্তি নিত্য পূজিত।
 |
| রামরাজা |
 |
| লক্ষ্মীজনার্দন ও গোপাল মন্দির |
 |
| মন্দিরের সামনের বিন্যাস |
 |
| রাজদরবারে রামসীতা |
 |
| বড় করে - ১ |
 |
| বড় করে - ২ |
 |
বড় করে - ৩
( সিংহাসনে উপবিষ্ট রাম-সীতা ) |
 |
| বড় করে - ৪ |
 |
| গণেশ-জননী ও অন্যান্য চিত্র |
 |
উপরে, সংকীর্তনরত শ্রীচৈতন্য ও নিত্যানন্দ মহাপ্রভু
নিচে, রাইরাজা
|
 |
| ষোড়শী |
 |
| দক্ষিণা কালী |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ১ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ২ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৩ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৪ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৫ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৬ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৭ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৮ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৯ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ১০ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ১১ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ১২ |
 |
| কমলেকামিনী |
 |
| মহিষাসুরমর্দিনী |
 |
| 'টেরাকোটা'র নকশা |
 |
লক্ষ্মীজনার্দন ( শালগ্রাম শিলা ) ও গোপালের নিত্য পূজা
মন্দিরটি পরিদর্শনের তারিখ : ৩০.১০.১৯ |
সহায়ক গ্রন্থ :
১) বীরভূম জেলার পুরাকীর্তি : দেবকুমার চক্রবর্তী
------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
আপনার এই ব্লগ টি খুব সুন্দর।
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর ছবি।
ধন্যবাদ
মুছুন