গোকুলচাঁদ মন্দির এবং .... , গোকুলনগর, বাঁকুড়া
শ্যামল কুমার ঘোষ
বাঁকুড়া জেলার জয়পুর থানার অন্তর্গত জয়পুর একটি গ্রাম। গ্রামটি আরামবাগ-বিষ্ণুপুর বাস রাস্তায় অবস্থিত। এই গ্রাম থেকে ৫ কিমি দূরে, গোকুলনগর-জয়পুর রেলস্টেশনের কাছে ধানক্ষেতের পাশে পাথরের ভাঙা-পাঁচিল ঘেরা অঙ্গনের মধ্যে মাকড়া পাথরে তৈরি, পূর্বমুখী ও পঞ্চরত্ন শৈলীর গোকুলচাঁদের মন্দির অবস্থিত। দৈর্ঘ্যপ্রস্থে ১৩.৭ মিটার ও উচ্চতায় ১৩.৭ মিটার, এ মন্দিরটি বাঁকুড়া জেলার পাথরের মন্দিরগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য। প্রথমতঃ, আয়তনে এটি সর্ববৃহৎ ; দ্বিতীয়তঃ, চারিদিকে তিন খিলানযুক্ত বারান্দা ছাড়াও গর্ভগৃহের চারিদিকে এক প্রদক্ষিণপথ খুবই অভিনব ; তৃতীয়তঃ, পূর্ব ও দক্ষিণের দেওয়ালে নিবদ্ধ দশাবতার প্রভৃতির বহু সংখ্যক ভাস্কর্য খ্রিস্টীয় সতের শতকের অন্যান্য পাথরের মন্দিরে সাধারণতঃ দেখা যায় না। মন্দিরের কেন্দ্রীয় চূড়াটি কোণের চূড়াগুলির তুলনায় অনেক বড় ও আটকোণা, কোণের গুলি চার কোণা। প্রতিষ্ঠালিপি থেকে জানা যায় যে মন্দিরটি প্রথম রঘুনাথ সিংহের রাজত্বকালে, ৯৪৯ মল্লাব্দে ( ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে ) নির্মিত হয়েছিল। ( এখন প্রতিষ্ঠালিপিটি পাঠযোগ্য নয়। ) মন্দিরের দক্ষিণে ভোগগৃহ বা অতিথিনিবাসটির ছাদ ভেঙে গেলেও দেওয়ালগুলি অক্ষত আছে। গর্ভগৃহে রাধা-কৃষ্ণের একটি ছবি ও নারায়ণ শিলা নিত্য পূজিত হন।
গোকুলচাঁদ মন্দিরের উত্তরে, কিছুটা দূরে ক্লোরাইট পাথরের এক অপূর্ব বরাহ-অবতার মূর্তি কিছুটা মাটিতে পোঁতা অবস্থায় দেখা যায়। স্থানীয় লোকেরা মূর্তিতে প্রতিদিন ফুল দেন।
গোকুলনগরের ভুবনেশ্বর শিবমন্দিরে একটি বৃহদাকার শিবলিঙ্গ নিত্য পূজিত হন। কাছেই একটি মন্দিরে দুটি পাথরের মূর্তি দেখা যায়। তার একটি কালী মূর্তি। পঞ্চরত্ন শৈলীর মন্দিরাকার গোকুলনগর-জয়পুর রেলস্টেশনটিও সুন্দর।
 |
| গোকুলচাঁদ মন্দির, গোকুলনগর, বাঁকুড়া - ১ |
 |
| গোকুলচাঁদ মন্দির, গোকুলনগর, বাঁকুড়া - ২ |
 |
| গোকুলচাঁদ মন্দির, গোকুলনগর, বাঁকুড়া - ৩ |
 |
| গোকুলচাঁদ মন্দির, গোকুলনগর, বাঁকুড়া - ৪ |
 |
| দক্ষিণ দিকের ত্রিখিলান বিন্যাস |
 |
| দশাবতার ও অন্যান্য মূর্তি - ১ |
 |
| দশাবতার ও অন্যান্য মূর্তি - ২ |
 |
| দশাবতার ও অন্যান্য মূর্তি - ৩ |
 |
| দশাবতার ও অন্যান্য মূর্তি - ৪ |
 |
| দশাবতার ও অন্যান্য মূর্তি - ৫ |
 |
| দশাবতার ও অন্যান্য মূর্তি - ৬ |
 |
| দশাবতার ও অন্যান্য মূর্তি - ৭ |
 |
| দশাবতার ও অন্যান্য মূর্তি - ৮ |
 |
| নৃসিংহ-বামন-পরশুরাম |
 |
| দুই গোপী সহ কৃষ্ণ |
 |
| কৃষ্ণ-রাধিকার ছবি ও শালগ্রাম শিলা |
 |
| বরাহ-অবতার মূর্তি - ১ |
 |
| বরাহ-অবতার মূর্তি - ২ |
 |
| ভুবনেশ্বর শিবমন্দির |
 |
| ভুবনেশ্বর শিবলিঙ্গ |
 |
| দুটি পাথরের মূর্তি |
 |
| কালী |
 |
| গোকুলনগর-জয়পুর রেলস্টেশন - ১ |
 |
| গোকুলনগর-জয়পুর রেলস্টেশন - ২ |
মন্দিরগুলি পরিদর্শনের তারিখ : ০৭.০৯.২০১৯
সহায়ক গ্রন্থ :
১) বাঁকুড়া জেলার পুরাকীর্তি : অমিয়কুমার বন্দোপাধ্যায়
-----------------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন