শিব মন্দির, বাগনান চৈতন্যবাটি, হুগলি
শ্যামল কুমার ঘোষ
হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনে বেলমুড়ি একটি রেলস্টেশন। হাওড়া থেকে বেলমুড়ি পঞ্চদশ রেলস্টেশন। রেলপথে হাওড়া থেকে দূরত্ব ৪৬.৪ কিমি। বেলমুড়ি স্টেশনের দেড় কিমি দূরের গ্রাম বাগনান চৈতন্যবাটি। এখানে স্থানীয় বিশ্বাস বংশ কর্তৃক ১৭১৮ শকাব্দে ( ১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে ) প্রতিষ্ঠিত একটি শিবমন্দির আছে। হুগলি জেলার পুরাকীর্তি গ্রন্থে এটি ১৭১৮ খ্রিস্টাব্দ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্দিরে একটি প্রতিষ্ঠা-ফলক বর্তমান। এই বিশ্বাস পরিবার এখন আর এখানে থাকেন না।
মন্দিরটি অল্প উঁচু ভিত্তিবেদির উপর প্রতিষ্ঠিত, পূর্ব মুখী, একদ্বারবিশিষ্ট ও আটচালা শৈলীর। মন্দিরের সামনের দেওয়াল টেরাকোটা অলংকরণে অলংকৃত। যদিও সেই টেরাকোটার অনেক ফলক নষ্ট হয়ে গেছে। যা অবশিষ্ট আছে তাও সংস্কারের সময় রঙের প্রলেপ দেওয়ায় অনেকটাই আজ ম্লান। মন্দিরটি অজয় কুমার মুখার্জী, তারক নাথ দে ও শীতল চন্দ্র বিশ্বাস কর্তৃক বাং ১৪১১ সালে সংস্কার করা হয়। মন্দিরের গর্ভগৃহের সামনে পত্রাকৃতি খিলান। খিলানের উপরে ফুল ও লতাপাতার কাজ। মন্দিরে মৃৎফলকের কয়েকটি সুন্দর বড় ফুল ও কুলুঙ্গির মধ্যে কয়েকটি মূর্তি ও নকশা বর্তমান। ভিত্তিবেদি সংলগ্ন টেরাকোটার নকশাগুলিও সুন্দর। গর্ভগৃহে কাল কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ নিত্য পূজিত।
 |
| শিবমন্দির |
 |
| মন্দিরের সামনের বিন্যাস |
 |
| মন্দিরের সামনের বিন্যাস ( বড় করে ) |
 |
| খিলানের উপরের কাজ |
 |
| খিলানের উপরের কাজ ( বড় করে ) |
 |
| মন্দিরের প্রতিষ্ঠা-ফলক |
 |
| মন্দিরের এক দিকের কোনাচ |
 |
| মন্দিরের আর এক দিকের কোনাচ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ১ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ২ |
 |
| ভিত্তিবেদি সংলগ্ন নকশা - ১ |
 |
| ভিত্তিবেদি সংলগ্ন নকশা - ২ |
 |
| কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ |
এই মন্দিরের কিছুটা উত্তরে স্থানীয় বসু পরিবার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি পঞ্চরত্ন শিবমন্দির বর্তমান। মন্দিরটি সামান্য উঁচু ভিত্তিবেদির উপর প্রতিষ্ঠিত, পূর্ব মুখী ও একদ্বারবিশিষ্ট। এর ছাদের চারকোণে চারটি চূড়া এবং মাঝখানে অপেক্ষাকৃত বড় একটি চূড়া। মন্দিরের সামনের দেওয়াল টেরাকোটা অলংকরণে অলংকৃত। যদিও সেই টেরাকোটার অনেক ফলক নষ্ট হয়ে গেছে। যা অবশিষ্ট আছে তাও সংস্কারের সময় রঙের প্রলেপ দেওয়ায় অনেকটাই ম্লান। মন্দিরের গর্ভগৃহের সামনে পত্রাকৃতি খিলান। খিলানের উপরে আটটি প্রতীক শিবালয় ও তার মধ্যে শিবলিঙ্গ। মন্দিরে কুলুঙ্গির মধ্যে টেরাকোটার কয়েকটি মূর্তি বর্তমান। এ ছাড়া টেরাকোটা নকশাও আছে। মন্দিরের দক্ষিণ দিকের দেওয়ালে একটি মাত্র টেরাকোটা ফলক বর্তমান এবং সেটি মিথুন মূর্তি। মন্দিরের গর্ভগৃহে কাল পাথরের শিবলিঙ্গ নিত্য পূজিত।
 |
| পঞ্চরত্ন শিবমন্দির |
 |
| মন্দিরের সামনের বিন্যাস |
 |
| খিলানের উপরের কাজ |
 |
| মিথুন মূর্তি |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যের মূর্তি - ১ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যের মূর্তি - ২ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যের মূর্তি - ৩ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যের মূর্তি - ৪ |
 |
| মন্দিরের কোনাচ |
এই মন্দিরের বিপরীতে বসু পরিবার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আর একটি পশ্চিম মুখী, পঞ্চরত্ন মন্দির বর্তমান। মন্দিরটি বর্তমানে ভগ্ন ও পরিত্যক্ত। এর সামনের দেওয়ালে যেটুকু টেরাকোটা অলংকরণ এখনও অবশিষ্ট আছে তা থেকে বোঝা যায় যে এই টেরাকোটা খুবই উন্নতমানের।
 |
| পরিত্যক্ত পঞ্চরত্ন শিবমন্দির |
 |
| মন্দিরের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| মন্দিরের খিলানের উপরের কাজ ( বড় করে ) |
 |
| ভিত্তিবেদি সংলগ্ন টেরাকোটা ফলক |
 |
| মন্দিরে টেরাকোটা নকশা - ১ |
 |
| মন্দিরে টেরাকোটা নকশা - ২ |
 |
| মন্দিরে টেরাকোটা মূর্তি - ১ |
 |
| মন্দিরে টেরাকোটা মূর্তি - ২ |
এছাড়া এখানে আগে ঘোষ বংশ প্রতিষ্ঠিত দ্বাদশ শিবের মন্দির ছিল। এই মন্দিরগুলির একটি ছাড়া সবগুলিই ভূমিসাৎ হয়ে গেছে। যে মন্দিরটি অবশিষ্ট আছে তাও এখন ভগ্ন ও পরিত্যক্ত। মন্দিরগুলির শিবলিঙ্গগুলি বর্তমানে একটি নতুন তৈরি দালান-গৃহে নিত্য পূজিত হচ্ছেন।
 |
| পরিত্যক্ত শিবমন্দির |
 |
| পরিত্যক্ত শিবমন্দিরের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| দ্বাদশ শিবমন্দিরের কয়েকটি শিবলিঙ্গ |
বাগনান চৈতন্যবাটির উপরোক্ত মন্দিরগুলিতে যেতে হলে হাওড়া থেকে হাওড়া-কর্ড লাইনের ট্রেন ধরুন। নামুন বেলমুড়ি স্টেশনে। স্টেশনের উত্তর দিক থেকে রিকশায় বা হেঁটে পৌঁছে যান বাগনান চৈতন্যবাটি।
সহায়ক গ্রন্থ :
১) হুগলি জেলার পুরাকীর্তি : নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য
-------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন