রঘুনাথ মন্দির, বাকসা, জনাই, হুগলি
শ্যামল কুমার ঘোষ
হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনে জনাই রোড একটি রেলস্টেশন। হাওড়া থেকে জনাই রোড সপ্তম রেলস্টেশন। রেলপথে হাওড়া থেকে দূরত্ব ২০ কিমি।
জনাই গ্রামের প্রান্তে অবস্থিত বাকসা একটি সমৃদ্ধ গ্রাম। এই গ্রামের চৌধুরী, মিত্র ও সিংহ বংশ ( এই বংশে কালীপ্রসন্ন সিংহ জন্ম গ্রহণ করেন ) বিশেষ প্রসিদ্ধ। এই গ্রামের শ্রীশ্রী রঘুনাথ জিউর মন্দির বাংলার প্রাচীন মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম। বাকসার মিত্র বংশের ভ্রুকুটরাম মিত্র ১৭৯২ খ্রীষ্টাব্দে ( বাং ১১৯৯ ) এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং দৈনিক সেবার জন্য জমি দান করেন। মিত্র বংশের কুলদেবতা রঘুনাথ শিলার নামানুসারে এই মন্দির রঘুনাথের মন্দির রূপে পরিচিত। মন্দিরটি উঁচু ভিত্তি বেদির উপর প্রতিষ্ঠিত, পূর্বমুখী ও নবরত্ন শৈলীর। সামনে তিনটি খিলান প্রবেশপথ। গর্ভগৃহের সামনে ঢাকা বারান্দা। নবরত্নের চূড়াগুলি শীর্ণ ও লম্বাটে। পূর্বে মন্দিরটিতে টেরাকোটা কারুকার্য ছিল। সংস্কারের সময় এই কাজ অপসারিত হয়েছে। তবে সামান্য একটু কাজ এখনও অবশিষ্ট আছে। মন্দিরটিতে প্রতিষ্ঠাকালীন একটি প্রতিষ্ঠাফলক থাকলেও তাতে এখন প্রতিষ্ঠা-সালটির শেষ দুটি অঙ্ক অনুপস্থিত।
গর্ভগৃহে কাঠের সিংহাসনে শ্রীশ্রী রঘুনাথ জিউ ও রাধিকা বিগ্রহ নিত্য পূজিত।
![]() |
| শ্রীশ্রী রঘুনাথ জিউর মন্দির |
![]() |
| মন্দিরের শিখরদেশ |
![]() |
| টেরাকোটা কাজ সহ প্রতিষ্ঠাফলক |
![]() |
| প্রতিষ্ঠাফলক |
![]() |
| শ্রীশ্রী রঘুনাথ জিউ ও রাধিকা বিগ্রহ |
বাকসার অপর উল্লেখযোগ্য পুরাকীর্তি দ্বাদশ শিবমন্দির। স্থানীয়রা বলেন বারোমন্দির। দেওয়ান ভবানীচরণ মিত্র ১৭৮০ খ্রীষ্টাব্দে মন্দিরগুলি প্রতিষ্ঠা করেন। ছয়টি করে দুটি সারিতে মন্দিরগুলি অবস্থিত। উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত মন্দিরগুলি আটচালা শৈলীর। প্রতিটি মন্দিরের উচ্চতা ৬০ ফুট ( প্রায় ১৮ মিটার ) । সামনে উঁচু রোয়াক দ্বারা মন্দিরগুলি সংযুক্ত। চৈত্র মাসের সংক্রান্তির দিন মন্দির প্রাঙ্গণে মেলা বসে।
![]() |
| এক সারিতে ছয়টি শিবমন্দির |
ভবানীচরণ মিত্র দ্বাদশ শিবমন্দির ছাড়াও আরও ছয়টি আটচালা শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। দুটি করে তিনটি বিভিন্ন স্থানে মন্দিরগুলি অবস্থিত।
বাকসার মন্দিরগুলিতে যেতে হলে হাওড়া থেকে হাওড়া-কর্ড লাইনের ট্রেন ধরুন। নামুন জনাই রোড স্টেশন। স্টেশন থেকে মশাট গামী অটোতে উঠে বাকসা ষষ্ঠীতলায় নামুন। সেখান থেকে হেঁটে মন্দির। প্রথমে দ্বাদশ শিবমন্দির পড়বে। তারপর রঘুনাথ মন্দির।
সহায়ক গ্রন্থ :
১) হুগলি জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ ( ২ য় খণ্ড ) : সুধীর কুমার মিত্র
---------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।














































