শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬

Dwarika Chandi Temple, Dwarhatta, Haripal, Hooghly


শ্রীশ্রী দ্বারিকা  চণ্ডী  মন্দির,  দ্বারহাট্টা,  হরিপাল,  হুগলী

                     শ্যামল  কুমার  ঘোষ  

            দ্বারিকা  চণ্ডীর  পূর্বের  মন্দির  মোহিনী  মোহন  সিংহ  রায়ের  পূর্বপুরুষ  নির্মাণ  করেন।  মন্দিরটি  ১১২৬  সালে  স্থাপিত  বলে  মন্দিরের  গায়ে  একটি  প্রস্তর-ফলক  লাগানো  আছে।  সেই  মন্দির  টেরাকোটা  অলংকরণে  অলংকৃত  ছিল।  পরে  মন্দিরটি  জীর্ণ  হয়ে  গেলে  সর্বসাধারণের  আর্থিক  ও  সক্রিয়  সহায়তায়  ৬ ই  আশ্বিন,  ১৪১৩  সনে  মন্দিরটি  নতুন  ভাবে  গড়ে  ওঠে।  বর্তমান  মন্দিরের  বাইরের  দেওয়ালে  কোন   টেরাকোটার  অলংকরণ  নেই।  অলিন্দে  সামান্যই  টেরাকোটা  অবশিষ্ট  আছে।  মন্দিরটি  অল্প  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত,  পূর্বমুখী,  আটচালা  রীতির।  গর্ভগৃহের  সামনে  আবৃত  অলিন্দ  আছে।  মন্দিরের  পিছনে  পঞ্চমুণ্ডীর  আসন  ও  পাশে  দেবীর  পুকুর  এখনও  আছে। 

            গর্ভগৃহে  শ্রীশ্রী দ্বারিকা  চণ্ডী  প্রতিষ্ঠিত  ও  নিত্য  পূজিত।  দ্বারিকা  চণ্ডী  চতুর্ভুজা  দুর্গা  মূর্তি।  দেবীর  সঙ্গে  আছেন  লক্ষ্মী,  সরস্বতী,  কার্তিক  ও  গনেশ।  কিন্তু  মহিষাসুর  অনুপস্থিত।  দুর্গা  পুজোর  সময়  দ্বারিকা  চণ্ডীর  বলিদান  হওয়ার  পর  চারপাশের  দশ-বারটি  গ্রামের  পুজোর  বলিদান  হয়। 

শ্রীশ্রী  দ্বারিকা  চণ্ডীর  মন্দির,  দ্বারহাট্টা 

মন্দিরের  সামনের  বিন্যাস 

মন্দিরের  শিখরদেশ

মন্দিরের  পিছনের  পঞ্চমুমুণ্ডীর  আসন 

শ্রীশ্রী  দ্বারিকা  চণ্ডী  মাতা - ১

শ্রীশ্রী  দ্বারিকা  চণ্ডী  মাতা - ২

            দ্বারহাট্টার  মন্দিরে  যেতে  হলে  হাওড়া  থেকে  তারকেশ্বর  লোকালে  উঠুন।  নামুন  হরিপাল  স্টেশনে।  স্টেশনের  পাশ  থেকে  বড়গাছিয়া  গামী  বাসে  উঠুন।  নামুন  রামহাটিতলা।  সেখান  থেকে  রিকশায়  বা  হেঁটে  মন্দির।  রিকশায়  গেলে  রিকশা  ছাড়বেন  না।  কারণ  ফিরতি  পথে  রিকশা  পাবেন  না। 
            

   সহায়ক  গ্রন্থ :
                 ১)  হুগলি  জেলার  ইতিহাস  ও  বঙ্গসমাজ ( ৩ য়  খণ্ড ) :  সুধীর  কুমার  মিত্র 
                
         দ্বারহাট্টার  আর  একটি  মন্দির  রাজরাজেশ্বর  মন্দির  সম্বন্ধে  জানতে  নিচের  লিঙ্কে  ক্লিক  করুন :
              শ্রীশ্রী  রাজরাজেশ্বর  মন্দির,  দ্বারহাট্টা,  হুগলি 

----------------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন