শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৬

Madanmohan Jiu Temple, Uria Goswami Bari, Santipur, Nadia

       শ্রীশ্রী মদনমোহন  জিউ  মন্দির,  উড়িয়া  গোস্বামী  বাড়ি,  শান্তিপুর, নদিয়া

                             শ্যামল  কুমার  ঘোষ

             রামচন্দ্র  গোস্বামীর  পুত্র  রাধাবল্লভ  গোস্বামী  (বাচস্পতি )  পুরীধাম  ত্যাগ  করে  শান্তিপুরে  এসে  বসবাস  করতে  থাকেন।  সেজন্য  তিনি  শান্তিপুরে  উড়িয়া  গোস্বামী  নামে  পরিচিত  হন।  তিনি  আসবার  সময়  ধাতুময়  শ্রীশ্রী  নৃত্যগোপাল  বিগ্রহ  নিয়ে  আসেন।  পরে  শ্রীশ্রী  মদনমোহন  বিগ্রহও  একই  মন্দিরে  প্রতিষ্ঠা  করা  হয়। মন্দিরে  আনুমানিক  ৩০০ বছর  ধরে  নিত্যগোপাল  বিগ্রহ  সহ  মদনমোহন  বিগ্রহের  নিত্যসেবা, ভোগ  ও  সন্ধারাতিসহ   পূজা  হয়ে  আসছে।  এছাড়া  বিভিন্ন  তিথিতে  বিভিন্ন  বৈষ্ণব-উৎসবও  পালন  করা  হয়।  দোল  উৎসবে  শ্রীশ্রী  শ্যামচাঁদ  বিগ্রহ,  বারোয়ারি  পূজার  প্রতিমা  ও  অন্যান্য  বিগ্রহ  সহ  এই  বিগ্রহকে  মন্দিরের  বাইরে  মাঠ-প্রাঙ্গণে  মঞ্চে  বসিয়ে  'ডালিধরা'  অনুষ্ঠান  পালন  করা  হয়।  এখানে  উল্লেখ্য,  রাধাবল্লভ  গোস্বামী   বাচস্পতি   ছিলেন   খাঁদের  গুরু। 
      
             শান্তিপুরের  উড়িয়া  গোস্বামী  বাড়িতে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি মি।  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  উড়িয়া  গোস্বামী  বাড়ি।  ৩৪  নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন। 

শ্রীশ্রী মদনমোহন  জিউ  মন্দির, উড়িয়া  গোস্বামী  বাড়ি 

শ্রীশ্রী মদনমোহন  ও  শ্রীশ্রী  নিত্যগোপাল  বিগ্রহ

শ্রীশ্রী মদনমোহন   বিগ্রহ


  সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :
                    ১. পশ্চিমবঙ্গ  ভ্রমণ  ও  দর্শন :  ভূপতিরঞ্জন  দাস
                    ২. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা                        
                   ----------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
                                            

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন