শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৬

Madanmohan Jiu Temple, Uria Goswami Bari, Santipur, Nadia

       শ্রীশ্রী মদনমোহন  জিউ  মন্দির,  উড়িয়া  গোস্বামী  বাড়ি,  শান্তিপুর, নদিয়া

                             শ্যামল  কুমার  ঘোষ

             রামচন্দ্র  গোস্বামীর  পুত্র  রাধাবল্লভ  গোস্বামী  (বাচস্পতি )  পুরীধাম  ত্যাগ  করে  শান্তিপুরে  এসে  বসবাস  করতে  থাকেন।  সেজন্য  তিনি  শান্তিপুরে  উড়িয়া  গোস্বামী  নামে  পরিচিত  হন।  তিনি  আসবার  সময়  ধাতুময়  শ্রীশ্রী  নৃত্যগোপাল  বিগ্রহ  নিয়ে  আসেন।  পরে  শ্রীশ্রী  মদনমোহন  বিগ্রহও  একই  মন্দিরে  প্রতিষ্ঠা  করা  হয়। মন্দিরে  আনুমানিক  ৩০০ বছর  ধরে  নিত্যগোপাল  বিগ্রহ  সহ  মদনমোহন  বিগ্রহের  নিত্যসেবা, ভোগ  ও  সন্ধারাতিসহ   পূজা  হয়ে  আসছে।  এছাড়া  বিভিন্ন  তিথিতে  বিভিন্ন  বৈষ্ণব-উৎসবও  পালন  করা  হয়।  দোল  উৎসবে  শ্রীশ্রী  শ্যামচাঁদ  বিগ্রহ,  বারোয়ারি  পূজার  প্রতিমা  ও  অন্যান্য  বিগ্রহ  সহ  এই  বিগ্রহকে  মন্দিরের  বাইরে  মাঠ-প্রাঙ্গণে  মঞ্চে  বসিয়ে  'ডালিধরা'  অনুষ্ঠান  পালন  করা  হয়।  এখানে  উল্লেখ্য,  রাধাবল্লভ  গোস্বামী   বাচস্পতি   ছিলেন   খাঁদের  গুরু। 
      
             শান্তিপুরের  উড়িয়া  গোস্বামী  বাড়িতে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি মি।  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  উড়িয়া  গোস্বামী  বাড়ি।  ৩৪  নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন। 

শ্রীশ্রী মদনমোহন  জিউ  মন্দির, উড়িয়া  গোস্বামী  বাড়ি 

শ্রীশ্রী মদনমোহন  ও  শ্রীশ্রী  নিত্যগোপাল  বিগ্রহ

শ্রীশ্রী মদনমোহন   বিগ্রহ


  সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :
                    ১. পশ্চিমবঙ্গ  ভ্রমণ  ও  দর্শন :  ভূপতিরঞ্জন  দাস
                    ২. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা                        
                   ----------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
                                            

সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৬

Shri Shri Bangshidhari Jiu Temple, Kansaripara, Santipur, Nadia

  

শ্রীশ্রী বংশীধারী  জিউ  মন্দির, কাঁসারিপাড়া, শান্তিপুর, নদিয়া 

                      শ্যামল  কুমার  ঘোষ                                                

           শান্তিপুরের  শ্রীশ্রী  শ্যামচাঁদ  মন্দিরের  কাছে  কাঁসারি  পাড়ায়  একই  পাদপীঠের  উপর  নির্মিত,  অলিন্দবিহীন,  একদরজা  বিশিষ্ট,  পূর্বমুখী  দুটি  বাংলা  আটচালা মন্দিরের মাঝখানে   অলিন্দযুক্ত  একটি  দালান  মন্দির  অবস্থিত।  আটচালা  মন্দির  দুটিতে  যাদবেশ্বর  ও  মাধবেশ্বর  নামে  কালো  পাথরের  দুটি  শিবলিঙ্গ  নিত্য  পূজিত।  শিবমন্দির  দুটির  আয়তন  একই ;  দৈর্ঘ্য,  প্রস্থ  ও  উচ্চতা  যথাক্রমে  ১২ ফুট  ৬ ইঞ্চি ( ৩.৯ মি. ),  ১০ ফুট  ৬ ইঞ্চি ( ৩.৩ মি.)  ও  আনুমানিক  ২০ ফুট ( ৬.১ মি.)।  উভয়  শিবমন্দিরের  সামনের  দেওয়াল  পোড়ামাটির  মূর্তি  ও  অলংকরণে  সজ্জিত।  মূর্তিগুলির  বিষয়বস্তু --  দশাবতার,  পৌরাণিক  দেবদেবী,  শিবের  বিবাহ  এবং   রাজপরিষদ।  দালান  মন্দিরটি  ত্রিখিলান  বিশিষ্ট।  কোন  অলংকরণ  নেই।  গর্ভগৃহে  কাঠের  সিংহাসনে  কষ্টিপাথরের  'বংশীধারী  জিউ'  নামে  খ্যাত  শ্রীকৃষ্ণ  ও  অষ্টধাতুর  রাধিকা  মূর্তি  নিত্য  পূজিত।  এই  সিংহাসনে  শ্রী শ্রী  বঙ্কুবিহারী  জিউ  নামে  খ্যাত  শ্রীকৃষ্ণ  ও  একটি  রাধিকা  মূর্তিও  উপাসিত।  এই  বিগ্রহ  আগে  বেণে  পাড়ায়  চক্রবর্তী  বাড়িতে  পূজিত  হতেন।  কয়েক  বছর  আগে  এই  বিগ্রহ  অপহৃত  হয়।  উদ্ধার  হওয়ার  পর  বিগ্রহ  এখানে  রাখা  হয়।

           মন্দির  তিনটির  পাদপীঠে  একটি  পাথরের  প্রতিষ্ঠাফলকের  পাঠ  নিম্নরূপ :
  " অতিষ্ঠিপচ্ছিবস্য  দ্বে  লিঙ্গে  রাধে  যুগেন্দুমে 
  মঠাভ্যাং  বাণবস্বব্ধিচন্দ্রশাকে  রবের্দিনে ।। 
  শকাব্দা :  ১৭৮৫ / ১৪  বৈশাখ ।  
  হরেমূর্ত্তিং  রামযদুনাথদাসস্তথাকরোৎ
  অভ্রাক্ষিমে  মুনীভাব্ধিভূমিশাকে  বিধোর্দিনে ।।  
    শকাব্দা :  ১৭৮৭ /  ২০  আষাঢ় ।  "

            অর্থাৎ,  ১৪ বৈশাখ  ১৭৮৫  শকে ( ১৮৬৩  খ্রিস্টাব্দ ),  রবিবার,  দুটি  শিবলিঙ্গ  দুটি  মন্দিরে  প্রতিষ্ঠিত  হল।  ২০  আষাঢ়  ১৭৮৭  শকে  ( ১৮৬৫  খ্রিস্টাব্দ ),  সোমবার,  রামযদুনাথদাস  কৃষ্ণমূর্তি  প্রতিষ্ঠা  করলেন।  প্রতিষ্ঠালিপি  অনুযায়ী,  শিবমন্দির  দুটি  দালান  মন্দিরটির  দু  বছর  আগে  নির্মিত  হয়।

            এই  রামযদুনাথ  যিনি  যদুনাথ  কাঁসারি  নামে  পরিচিত  ছিলেন  তিনি  কাঁসারিপাড়া  নিবাসী  ভক্তিমান  কৃষ্ণচন্দ্র  নাথের  একমাত্র  পুত্র  ছিলেন।  যদুনাথ  অত্যন্ত  মেধাবী  ছিলেন।  তিনি  ব্যবসা  সূত্রে  ধনশালী  ও  বহু  সম্পত্তির  অধিকারী  হন।  মন্দিরে  নিত্য  পূজা  ছাড়াও  রাস  ও  অন্যান্য  উৎসব  পালন  করা  হয়। 

           শান্তিপুরের  শ্রী বংশীধারী  জিউ  মন্দিরে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কিমি,  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  শ্রী  শ্যামচাঁদ  মন্দিরের  কাছে  যদুনাথ  কাঁসারি  বাড়িতে  অবস্থিত  শ্রী বংশীধারী  জিউ  মন্দিরে।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন।


যদুনাথ কাঁসারি বাড়ির ফটক 

বংশীধারী, যাদবেশ্বর ও মাধবেশ্বর মন্দির

দক্ষিণ দিকের মন্দিরের সামনের বিন্যাস 

দক্ষিণ দিকের মন্দিরের প্রবেশদ্বার ও খিলান

দক্ষিণ দিকের মন্দিরের খিলানের উপরের কাজ

দক্ষিণ দিকের মন্দিরের কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ১

দক্ষিণ দিকের মন্দিরের কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ -২

দক্ষিণ দিকের মন্দিরের কুলুঙ্গির মধ্যের  কাজ - ৩

দঃ দিকের মন্দিরের পাদপীঠ-সংলগ্ন কাজ  - ১

দঃ দিকের মন্দিরের পাদপীঠ-সংলগ্ন কাজ  - ২

দক্ষিণ দিকের মন্দিরের শিবলিঙ্গ 

উত্তর দিকের মন্দিরের সামনের বিন্যাস 

উত্তর দিকের মন্দিরের প্রবেশদ্বা  ও খিলান

উত্তর দিকের মন্দিরের খিলানের উপরের কাজ

উঃ দিকের মন্দিরের পাদপীঠ-সংলগ্ন কাজ - ১

উঃ দিকের মন্দিরের পাদপীঠ-সংলগ্ন কাজ - ২

উত্তর দিকের মন্দিরের শিবলিঙ্গ

শ্রীশ্রী বংশীধারী জিউ মন্দির

মন্দিরের প্রতিষ্ঠাফলক 

শ্রীশ্রী বংশীধারী ও অন্যান্য বিগ্রহ

শ্রীশ্রী বংশীধারী ও রাধিকা বিগ্রহ

  সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :

                ১. নদিয়া  জেলার  পুরাকীর্তি : মোহিত  রায় ( তথ্য-সংকলন  ও  গ্রন্থনা )
                ২. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা   


                      -----------------------------

      অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 

সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

                                         

শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৬

Jaleswar Shib Temple, Santipur, Nadia, West Bengal

       
জলেশ্বর  শিব  মন্দির,  শান্তিপুর,  নদিয়া 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            শান্তিপুরের  প্রাচীন  মন্দির  গুলির  মধ্যে  জলেশ্বর  শিব  মন্দির  উল্লেখযোগ্য।  মন্দিরটি  মতিগঞ্জ-বেজ  পাড়ায়  অবস্থিত  এবং  অল্প-উঁচু  পাদপিঠের  উপর  স্থাপিত।  এটি  দক্ষিণমুখী,  অলিন্দবিহীন  ও  বাংলা  চারচালা  শ্রেণীর  মন্দির।  পূর্ব  দিকেও  আর  একটি  প্রবেশদ্বার  আছে  এবং  এই  প্রবেশদ্বারটিই  এখন  ব্যবহার  করা  হয়।  কারণ  এই  দিকের   কাছেই  রাস্তা।  উভয়  প্রবেশদ্বারের  খিলানের  উপর  প্রান্তে  প্রতীক  শিব  মন্দিরের  সারি  এবং  তারমধ্যে  শিবলিঙ্গ  উৎকীর্ণ।  এ  মন্দিরের  গঠন  কতকটা  দিগনগরের  রাঘবেশ্বরের  মন্দিরের   মত  হলেও  এ  মন্দিরের  উচ্চতা  রাঘবেশ্বরের  মন্দিরের  চেয়ে  বেশি।  মাটিয়ারির  রুদ্ধেশ্বর  মন্দিরের  সঙ্গেও  এ  মন্দিরের  গঠন  ও  আকৃতির  অনেক  মিল  আছে,  তবে  সেটির  থেকেও  এ  মন্দিরের  উচ্চতা  অনেক  বেশি।  মন্দিরের  দক্ষিণ  দিকে  একটি  নাটমন্দির  আছে  যেটি  মন্দির  স্থাপনের  পরবর্তী  কালে  নির্মিত।  মন্দিরে  কোন  প্রতিষ্ঠালিপি  না  থাকায়  এ  মন্দির  কার  দ্বারা  বা  কোন্  সময়ে  প্রতিষ্ঠিত  তা  সঠিকভাবে  বলা  যায়  না।  অনেকে  বলেন,  রাজা  রুদ্রের  কনিষ্ট  পুত্র  রামকৃষ্ণের  মাতা  আঠারো  শতকের  প্রথম  দিকে  মন্দিরটি   প্রতিষ্ঠা  করেন।  আবার  কেউ  কেউ  বলেন  এটি  সপ্তদশ  শতাব্দীর  শেষভাগে  নদিয়ারাজ  রাঘব  রায়  প্রতিষ্ঠা  করেন।  (রাজত্বকাল  ১৬৩২-৮৩ খ্রি. )।  এক  সময়ে  এই  শিবলিঙ্গ  লোকের  কাছে   'রানির  শিব'  বা  'রুদ্রকান্ত'  নামে  পরিচিত  ছিল।  পরে  কোনো  এক  সময়ে  এখানে  নিদারুণ  অনাবৃষ্টির  সময়  সাধক  বিজয়কৃষ্ণ  বৃষ্টিপাতের  জন্য  শিবের  মাথায়  প্রচুর  গঙ্গাজল  ঢেলেছিলেন।  তারপরই  বেশ  বৃষ্টিপাত  হয়।  আর  তারপর  থেকেই  শিবের  নাম  হয়  'জলেশ্বর'।  শিবলিঙ্গটি  কাল  পাথরের।  উচ্চতা  প্রায়  ৩  ফুট (৯২ সে. মি.)।  জলেশ্বর  শিবলিঙ্গ  নিত্য  পূজিত। 

            স্বর্গীয়  কালীচরণ  চট্টোপাধ্যায়ের  মাতামহের  পূর্বপুরুষরা  এই  মন্দিরের  সেবায়েত  ছিলেন।  কালীচরণ  বাবু  একবার  এই  মন্দিরের  সংস্কার  করেন।  তিনি  মিউনিসিপ্যাল  কমিশনার  ও  অনারারি  ম্যাজিস্ট্রেট   ছিলেন।  তাঁর  কন্যা  স্বর্গীয়া  মোহিতকুমারীর  ( শান্তিপুরের  প্রসিদ্ধ  ধনী  স্বর্গীয়  কিশোরীলাল মুখোপাধ্যায়ের  পুত্রবধু )  সময়  নাটমন্দিরটি  নির্মিত  হয়। 
  
            মন্দিরটি  পোড়ামাটির  সূক্ষ্ম  মূর্তি  ও  নকাশি  অলংকরণে  অলংকৃত।  মন্দিরের  দক্ষিণ  ও  পূর্ব  উভয়  প্রবেশদ্বার  দুটিকে  ঘিরে  দুই  সারি  কুলুঙ্গির  মধ্যে  মূর্তিগুলি  উৎকীর্ণ।   দেওয়ালের  বাকি  অংশ  প্রধানত  নকাশি  সজ্জায়  সজ্জিত।  মূর্তিগুলির   পৌরাণিক  বিষয়বস্তু  --  কৃষ্ণলীলার  বিভিন্ন  দৃশ্য,  ভীষ্মের  শরশয্যা,  রামায়নের  কাহিনী,  মারীচ,  গরুড়বাহন,  বিষ্ণু,  হরগৌরী,  গণেশ,  কালী,  নারদ  ইত্যাদি  এবং   সামাজিক  বিষয়বস্তু  --  বন্দুকধারী  সাহেব,  তীরন্দাজ  ব্যাধ,  বর্মপরিহিত  যোদ্ধা  প্রভৃতি।  অনেকগুলি  কুলুঙ্গির  মূর্তি  এখন   বিনষ্ট।  সংস্কারের  সময়  পোড়ামাটির  সজ্জার  উপর  কলিচুনের  প্রলেপ  দেওয়ায়  পোড়ামাটির  অলংকরণ  এখন  অনেকটাই  ম্লান। 

            শান্তিপুরের  জলেশ্বরের  মন্দিরে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  জলেশ্বরের  মন্দির।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন। 

জলেশ্বর  শিব  মন্দির 

শিব  মন্দিরের  চূড়া

মন্দিরের  দক্ষিণ  দিকের  প্রবেশ-দ্বার ( নাটমন্দির  থেকে  তোলা  )

মন্দিরের  পূর্ব  দিকের  প্রবেশ-দ্বার

মন্দিরের  টেরাকোটার  কাজ - ১

মন্দিরের  টেরাকোটার  কাজ - ২

মন্দিরের  টেরাকোটার  কাজ - ৩

মন্দিরের  টেরাকোটার  কাজ - ৪

জলেশ্বর  মন্দির  ও  নাটমন্দির

জলেশ্বর  শিবলিঙ্গ 

       সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :
                 ১.  বাংলার  মন্দির  স্থাপত্য  ও  ভাস্কর্য  :  প্রণব  রায় 
                 ২.  নদিয়া  জেলার  পুরাকীর্তি  :  মোহিত  রায়  ( তথ্য-সংকলন  ও  গ্রন্থনা )
                 ৩.  শান্তিপুর - পরিচয় ( ১ ম  ভাগ ) : কালীকৃষ্ণ  ভট্টাচার্য
 
                      -------------------------------
     অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।