রাধা বিনোদ কিশোর জিউ মন্দির, ৪৩/৩ রাজা রাজবল্লভ স্ট্রিট, উত্তর কলকাতা
শ্যামল কুমার ঘোষ
উত্তর কলকাতার ৪৩/৩, রাজা রাজবল্লভ স্ট্রিটে রাধা বিনোদ কিশোর জিউ মন্দিরটি অবস্থিত। উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, দক্ষিণমুখী মন্দিরটি দালান শৈলীর। গর্ভগৃহের সামনে অলিন্দ। অলিন্দটি ঢালাই গ্রিল ও কলাপসিবল গেট দিয়ে ঘেরা। মন্দিরের সামনে একটু জায়গা আছে। তাতে একটি সিংহের মূর্তি। গেট দিয়ে ঢুকলে সামনেই গর্ভগৃহ। গর্ভগৃহের সামনে একটি কলাপসিবল গেট। গর্ভগৃহে একটি কাঠের সিংহাসনে ধাতুময় বিনোদ কিশোর (কৃষ্ণ), ধাতুময়ী রাধা, ধাতুময় গোপাল, দারু নির্মিত একক জগন্নাথ বিগ্রহ বিরাজমান। পাশের আর একটি সিংহাসনে আরও একটি রাধা-কৃষ্ণ বিগ্রহ বর্তমান। গর্ভগৃহের বাইরের দেওয়ালে শ্বেতপাথরের হনুমান মূর্তি আছে। মন্দিরের সমস্ত বিগ্রহই নিত্য পূজিত।
১৩৪৬ বঙ্গাব্দের ১৭ই বৈশাখ সোমবার শুক্লা ত্রয়োদশী তিথিতে ( ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১ লা মে ) মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীযুক্তেশ্বরী মাতা ঠাকুরাণী। মন্দিরের অলিন্দের বাইরের দিকের বাঁ দিকে একটি শ্বেতপাথরের প্রতিষ্ঠাফলক লাগানো আছে। শ্রী শ্রী রাধা বিনোদ কিশোর জিউ ট্রাস্ট মন্দিরটি পরিচালনা করেন।
 |
রাধা বিনোদ কিশোর জিউ মন্দির ( পাশ থেকে তোলা ) |
 |
রাধা বিনোদ কিশোর জিউ মন্দির ( সামনে থেকে তোলা ) |
 |
| গর্ভগৃহের সামনের বিন্যাস |
 |
| গর্ভগৃহের সকল বিগ্রহ |
 |
| একক জগন্নাথ |
 |
| গোপাল |
 |
| আর একটি রাধা-কৃষ্ণ বিগ্রহ |
 |
| হনুমান মূর্তি |
 |
| বিনোদ কিশোর ( কৃষ্ণ ) ও রাধিকা বিগ্রহ |
 |
| প্রতিষ্ঠাফলক |
কী ভাবে যাবেন ? উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারের পাঁচমাথার মোড়ে যে পাঁচটি রাস্তা এসে মিলিত হয়েছে তার একটি রাস্তার নাম ভূপেন্দ্র বসু এভেন্যুউ। এই রাস্তা ধরে এগুলে রাস্তাটি যেখানে যতীন্দ্র মোহন এভেন্যুয়ে মিশেছে সেখানে বিবেকানন্দের একটি মূর্তি আছে। এই মূর্তির একটু আগে ভূপেন্দ্র বসু এভেন্যুয়ের বাঁ দিকে রাজা রাজবল্লভ স্ট্রিটের একটি কাটা অংশ আছে যা মূল রাজা রাজবল্লভ স্ট্রিট থেকে বিচ্ছিন্ন। এখানে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই ৪৩/৩, রাজা রাজবল্লভ স্ট্রিটে পেয়ে যাবেন কাঙ্খিত মন্দির।
*******
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।
প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।
বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।
আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।
অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন