শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০২৩

Adi Anandamayi Kali / Basa Kali Temple, 160/2, Ramdulal Sarkar Street, Kolkata

 আদি আনন্দময়ী কালী / বসা কালী মন্দির,  

১৬০/২, রামদুলাল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা

শ্যামল কুমার ঘোষ  


            আদি আনন্দময়ী কালী মন্দির উত্তর কলকাতার চিত্তরঞ্জন এভেনিউ ও রামদুলাল সরকার স্ট্রিট-এর সংযোগস্থলের কাছে  ১৬০/২, রামদুলাল সরকার স্ট্রিটে অবস্থিত। স্থানীয় লোকেদের কাছে এই মন্দির 'বসা কালীর মন্দির' নামে পরিচিত। ১১২৫বঙ্গাব্দে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন মতিলাল দেবশর্মা। মন্দির প্রবেশের আগে ডানদিকের দেওয়ালে একটি প্রতিষ্ঠাফলক আছে।

প্রতিষ্ঠাফলকের পাঠ :

                       জয় আদি শ্রীশ্রী   ঁ আনন্দময়ী কালী

                                স্থাপিত : সন ১১২৫ সাল 

                        স্বত্ত্বাধিকারী - শ্রী মতিলাল দেবশৰ্ম্মা।  

              সাদামাটা লাল রঙের মন্দির। আসলে এটি মন্দির বললে  ভুল হবে। এখানে একটি বাড়ির একটি ঘরে মা বিরাজ করছেন। অন্যান্য কালী মূর্তির থেকে এখানে মাতৃ মূর্তির বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। এখানে   মা শায়িত মহাদেবের বুকের উপর পদ্মাসনে উপবিষ্টা। এ রকম মূর্তি আর কোথাও দেখা যায় না। মায়ের মূর্তির দক্ষিণ দিকে কাল ভৈরবের  মূর্তি স্থাপিত। মন্দিরের প্রবেশ পথে রয়েছে হাড়িকাঠ।  

            এই বন্দোপাধ্যায় পরিবারে কোনো পুত্র সন্তান না থাকার কারণে পরিবারের দুই বোন মধুশ্রী চ্যাটার্জী ও তনুশ্রী চক্রবর্তী মায়ের সেবা-কার্য ও মন্দিরটি দেখাশোনা করেন। এঁদের ঠাকুরদার বাবা  মতিলাল বন্দোপাধ্যায় (দেবশৰ্ম্মা ) স্বপ্নাদেশ পেয়ে সংলগ্ন জঙ্গলের মধ্যে থেকে মাকে উদ্ধার করেন। তিনশো বছর আগে এই স্থান ছিল জঙ্গলাকীর্ণ। এই জায়গা ছিল তখনকার স্থানীয় জমিদার মিত্র পরিবারের জমিদারির অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা মতিলাল বাবুকে মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেন।

            মন্দিরে মায়ের নিত্য পূজা ছাড়াও প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও ফলহারিণী কালীপূজা, রটন্তী কালীপূজা ও  দীপান্বিতা কালীপূজায় বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। মানসিকের পূজায় জোড়া নারকেল ও  বাতাসা দেওয়া হয়। প্রতি অমাবস্যায় নিশিপুজো হয়। অমাবস্যার ভোগে খিচুড়ি, আলুর দম, মাছ দেওয়া হয়। অম্বুবাচির চার দিনের দিন মাকে প্রতীকী স্নান করানো হয়। মাকে নতুন গামছা, আলতা-সিঁদুর দেওয়া হয়। কালীপূজার আগে মায়ের  অঙ্গরাগ হয়। দীপান্বিতা অমাবস্যায় মায়ের ধুমধাম করে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পূজার ভোগে অবশ্যই ষোল মাছ দেওয়া হয়।

        

আদি আনন্দময়ী কালী মা -১

আদি আনন্দময়ী কালী মা -২

মন্দিরের প্রতিষ্ঠাফলক 

              ------------------------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।





 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন