Pages

বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১

Anandamoyee Kali Temple, Nimtala Ghat Street, kolkata

 আনন্দময়ী  কালীমন্দির,  নিমতলা  ঘাট  স্ট্রিট,  কলকাতা 

             শ্যামল  কুমার  ঘোষ                       

            আনন্দময়ী  কালীমন্দির  কলকাতার  নিমতলা  অঞ্চলের  একটি  প্রসিদ্ধ  কালীমন্দির।  এটি  নিমতলা  ঘাট  স্ট্রিট  ও  স্ট্র্যান্ড  রোডের  সংযোগ  স্থলে  ৮৭,  নিমতলা  ঘাট  স্ট্রিটে  অবস্থিত। 

            আনন্দময়ী  কালী  সম্বন্ধে  একটি  কিংবদন্তি  প্রচলিত  আছে।  জগন্নাথ  নামে  একজন  লোক  খড়ের  ব্যবসা  করতেন।  জগন্নাথ  কালী  মন্দিরের  মহন্তের  ভক্ত  ছিলেন।  মৃত্যুর  সময়  মহন্ত  ঠাকুর  জগন্নাথের  হাতে  আনন্দময়ীর  সেবার  ভার  দিয়ে  যান।  জগন্নাথের  আর্থিক  অবস্থা  ভাল  ছিল  না।  তাই  তিনি  নারায়ণ  মিশ্র  নামে  এক  অবস্থাপন্ন  ব্রাহ্মণকে  এই  কালীস্থান  ও  পার্শ্বস্থ  জমি  বিক্রি  করে  দেন।  নারায়ণ  বাবু  ঘোর  শাক্ত  ছিলেন।  তিনি  দেবীর  নিত্যপূজা  ও  সেবার  ব্যবস্থা  করেন।  তাঁর  মৃত্যুর  পর  তাঁর  বড়  ছেলে  হরদেব  মিশ্র  মায়ের  সেবায়েতের  কাজ  করেন।  হরদেবের  মৃত্যুর  পর  তাঁর  ভাগ্নে  নিমতলার  জমিদার  মাধবচন্দ্র  বন্দোপাধ্যায়  উত্তরাধিকার  সূত্রে  এই  মন্দিরের  সেবায়েতের  ভার  পান।  মাধবচন্দ্রের  মৃত্যুর  পর  শিবকৃষ্ণ  বন্দোপাধ্যায়  মায়ের  সেবার  ভার  পান।  সেই  থেকে  বন্দোপাধ্যায়  পরিবার  মন্দিরের  সেবাকার্য  পরিচালানা  করে  আসছেন। 

            বর্তমান  মন্দিরটি  একটি  দোতলা  দালান  শ্রেণীর।  গর্ভগৃহের  সামনে  চাঁদনি  আকৃতির  গাড়ি  বারান্দা।  প্রথমে  আনন্দময়ী  একটি  পর্ণ  কুটিরের  মধ্যে  থাকতেন।  বন্দোপাধ্যায়  পরিবার  বর্তমান  মন্দির  নির্মাণ  করে  দেন। 

            মন্দিরের  আদি  বিগ্রহটি  ছিল  শ্মশানকালীর।  সেটি  ছিল  মাটির মূর্তি।  বত্তমান  মূর্তিটি  দক্ষিণাকালীর।  এটি  কষ্টিপাথরে  তৈরী।  মূর্তিটির  উচ্চতা  ৬০  সে.মি.।  পঞ্চমুন্ডির  আসনের  উপর  স্থাপিত  রুপোর  সিংহাসনে  মূর্তি  প্রতিষ্ঠিত।  মূর্তিটি  সালঙ্কারা  ও  রক্তবস্ত্রপরিহিতা।  বিগ্রহের  মাথায়  রয়েছে  সোনার  মুকুট।  মায়ের  জিবটিও  সোনার  তৈরি।  মন্দিরে  একটি  শ্বেতপাথরের ফলক  আছে।  নিত্য  পূজা  ছাড়াও  প্রতি  অমাবস্যায়  মন্দিরে  বিশেষ  পূজা  অনুষ্ঠিত  হয়।  কালী  পূজাতে  মহা  সমারোহে  মায়ের  পূজা  হয়।

          মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ১২.১০.২০২১


আনন্দময়ী কালী মন্দির, নিমতলা 

শ্বেতপাথরের ফলক 

আনন্দময়ী কালী মাতা - ১

আনন্দময়ী কালী মাতা - ২

আনন্দময়ী কালী মাতা - ৩

    সহায়ক  গ্রন্থ / সূত্র :

            ১)  কলিকাতা  সেকালের  ও  একালের :  হরিসাধন  মুখোপাধ্যায় 

            ২)  বাংলা  উইকিপিডিয়া                                                

            পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য কালী মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন / লিংকের উপর আঙুল দিয়ে টোকা দিন : 


            কলকাতার অন্যান্য মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন / লিংকের উপর আঙুল দিয়ে টোকা দিন : 

                        কলকাতার  মন্দির

-------------------------------------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।




 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন